পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী (Government Employees) এখন DA (Dearness Allowance) এবং নতুন পে কমিশন (7h Pay Commission) নিয়ে অধীর আগ্রহে আছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দাবিগুলো তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। কিন্তু সরকারি কর্মী সংগঠনগুলোর চাপে কার্যত ভোটের মুখে বড় ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক। যার জেরে এক শ্রেণীর কর্মীদের জল্পনা যেমন বাড়লো, তেমনি ভোটের মুখে ললিপপ দেখানো বলেও মন্তব্য অন্য এক শ্রেণীর কর্মীদের। যার জেরে, এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের মনে আশা-নিরাশার দোলাচল চলছে। তবে ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে কিছু সুসংবাদ আসতে পারে বলে, একটা ইঙ্গিত অবশ্য পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত জেনে নিন।
West Bengal Government Employees Salary Hike News
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা এক দিকে ১টি বেতন কমিশন (Pay Commission) পিছিয়ে রয়েছে। সেই সাথে প্রায় ৪০% বকেয়া ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) জমে গেছে। যার জেরে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতিমাসে বেতন বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছেন বলে, ২০১৬ সাল থেকে অভিযোগ রাজ্য সরকারি কর্মীদের। সেই সাথে ২০১৬ সাল থেকে চলা মামলা, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায়। সরকারি কর্মীদের একাংশের মত, এই ১০ বছর মামলা চালিয়ে রাজ্য সরকার যত টাকা ব্যয় করেছে, সেই টাকা দিয়ে প্রায় অর্ধেক ডিএ মিটিয়েই দেওয়া যেত! তার পরও কর্মীদের ন্যায্য পাওয়া না দেওয়ার জন্য ছল চাতুরী করেই চলেছে।
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার বর্তমান অবস্থা কী?
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) পুরনো ডিএ মামলার রায় এখনও রিজার্ভ রয়েছে। শীতকালীন ছুটির পর জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে রায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মী নেতারা বলছেন, রাজ্যের কর্মীরা অন্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় কর্মীরা ৫৮% হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু বাংলায় মাত্র ১৮%। এই বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। আদালতের রায়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। কর্মীরা আশাবাদী যে রায় তাদের পক্ষে আসবে।
সপ্তম বেতন কমিশনের দাবি কতটা জোরালো?
প্রতি ১০ বছর অন্তর পে কমিশন বসে। আর সেই রীতি মেনে, কর্মী সংগঠনগুলো দাবি করছে যে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হোক। এদিকে কেন্দ্রে অষ্টম পে কমিশন ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলেছে। রাজ্যে নতুন কমিশন না হলে কর্মীরা আরও পিছিয়ে পড়বেন। মলয় মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতারা বলছেন, বকেয়া DA না মিটিয়ে নতুন কমিশন চালু করা যাবে না। এই দাবি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে কী বার্তা এসেছে?
মন্ত্রী মনাস ভূঁইয়া সম্প্রতি একটি সভায় বলেছেন যে, রাজ্য সরকার কর্মীদের দাবি সম্পর্কে সচেতন। মেডিক্যাল অ্যালাউন্স, ট্রাভেল অ্যালাউন্স এবং DA নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিবেচনা করবেন। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ও সুযোগ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই কথায় কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশা জেগেছে। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্যে দুরত্ব অনেক বেশি। আর স্বভাবতই, নতুন বছর শুরু হলেও কিন্তু এখনও কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভোটের আগে কর্মীদের মন পেতে ডিএ হোক আর পে কমিশন, কিছু একটা ঘোষণা হতেই পারে। যেটি ১ এপ্রিল থেকে চালু হতে পারে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন এই জল্পনা?
এপ্রিল ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। তার আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হবে। ২০২৪-এ লোকসভা ভোটের আগে দু’দফায় DA বাড়ানো হয়েছিল। এবারও সেই পথে হাঁটতে পারে সরকার। সরকারি কর্মীরা (Government Employees) বড় ভোটব্যাঙ্ক এবং জনকল্যাণ প্রকল্প চালানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অসন্তোষ বাড়তে দিলে রাজনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। তাই অনেকে মনে করছেন DA বৃদ্ধি বা কমিশনের ঘোষণা আসতে পারে।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারি ছুটির তালিকা 2026 | আরও ১০টি ছুটি বেড়ে গেল
কর্মীদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ আশা
বর্তমানে রাজ্যের কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে আছেন। আর এই ৫ বছরে ডিএ মাত্র ১৮%। কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে অনেক পিছিয়ে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াই চলছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো সংগঠন নবান্ন অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে প্রথম থেকেই আইনি মামলা লড়ে চলেছেন ইউনিটি ফোরাম। তবে রাজ্য সরকার যে আইনি কৌশল অবলম্বন করে যতটা ধীরে চলো নীতি নেওয়া যায়, সেকথা সকলেই বুঝে গেছেন। তবুও সুপ্রিম রায় কি হয়, সেই অপেক্ষায় শেষ ভরসা নিয়ে রয়েছেন রাজ্যের কর্মীরা।
কী করবেন সরকারি কর্মীরা এখন?
রাজ্য সরকারি কর্মীরা (Government Employees) অপেক্ষা করছেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য। সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে দাবি জানাতে পারেন। অফিসিয়াল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত গুজবে কান না দেওয়াই ভালো। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ভোটের আগে অনেক কিছু ঘটতে পারে। ধৈর্য ধরে থাকুন। আশা ছাড়বেন না।