West Bengal: জরুরী পরিস্থিতিতে আগামী ৩ মাসের রেশন ও খাদ্য দ্রব্য মজুদ রাখার নির্দেশ। তবে কি অবস্থা বেগতিক?

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, রাজ্যজুড়ে (West Bengal) জারি সতর্কতা। দেশজুড়ে জরুরী পরিস্থিতির আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, আর তার ছায়া এসে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রেশন ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে রাজ্যগুলিকে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সাধারণ মানুষের খাদ্য সুরক্ষা এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য।

পশ্চিমবঙ্গে তিন মাসের রেশন মজুদের নির্দেশ

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী তিন মাস— অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে রেশন সামগ্রী সাধারণ মানুষকে দেওয়া হয়, তা আগেভাগেই জেলার গুদামগুলিতে মজুত করে দেওয়া হবে। এর ফলে আপদকালীন পরিস্থিতিতেও যেন খাদ্য বিতরণে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য একটাই— খাদ্য সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় এবং রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া বাজারে যেন অহেতুক ঘাটতির সৃষ্টি না করা হয়। সেই দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। দুর্নীতি এড়াতে সারপ্রাইজ ভিজিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের বার্তা

শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন-এর নেতৃত্বে দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে “সেনসিটিভ” বলে ব্যাখ্যা করে সব রাজ্যকে আপদকালীন প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মমতা ব্যানার্জির জরুরি বৈঠক ও প্রস্তুতি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে সমস্ত আমলাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক হয়। বৈঠকের পরদিন রবিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ডিজি (DG West Bengal), স্বাস্থ্যসচিব, খাদ্য ও রেশন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেশন ডিলাররা। বৈঠকে জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা এবং খাদ্য সরবরাহে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Government of West Bengal Initiative

সীমান্ত অঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হল নজরদারি

রাজ্য সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ঘন জঙ্গল অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে। উত্তরবঙ্গ, সুন্দরবন, ঝাড়গ্রাম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিয়মিত টহল চালায় এবং কোনও সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত রিপোর্ট পাঠায়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ

প্রতিটি জেলায় রিফ্রেশার ট্রেনিং

জরুরি পরিস্থিতিতে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার উপযোগিতা বাড়াতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নতুন করে রিফ্রেশার ট্রেনিং সেশন চালু করা হবে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করার জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি।

আরও পড়ুন, ৬০ বছর বয়স হলেই প্রতিমাসে পাবেন ১০০০০ টাকা করে। কিভাবে বিনিয়োগ করবেন?

জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের বার্তা

নবান্নের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে, এই সমস্ত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় না যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও আঁচ সাধারণ মানুষ অনুভব করুক কিংবা জনজীবনে কোনও প্রভাব পড়ুক। তাই আগেভাগেই সব ধরনের সতর্কতা এবং প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং প্রশাসন জানিয়েছে, রাজ্য সরকার সমস্ত ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

সাধারণ মানুষের কি করণীয়?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সমস্ত সচিব ও আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রত্যেক জেলায় যেন জেলা সাসকের তত্বাবধায়নে কমিটি ঘঠন করা হয়। বাজারে দ্রব্যএর যোগান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেন। সেই সাথে সাধারণ মানুষ যাতে ভয় পেয়ে অতিরিক্ত খাদ্য সামগ্রী বাড়িতে মজুদ না করেন, সেই ব্যাপারেও নজর দিতে হবে। আতঙ্কের কিছু নেই, সতর্ক থাকা জরুরী।

আরও পড়ুন, ফ্রি রেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আচমকা কি নির্দেশ এলো?

উপসংহার

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) পদক্ষেপ যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। রাজ্যবাসী যেন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকেন এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলেন, তবেই এই সম্ভাব্য সংকটের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ থাকবে সুরক্ষিত।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!