দেশের সমস্ত বেকার ছেলে মেয়ে ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য ই শ্রম কার্ড প্রকল্পের (E-Shram Card) মাধ্যমে মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি সহজ শর্ত পূরণ করলেই যোগ্য আবেদনকারীরা এই সুবিধা পেতে পারেন। ই-শ্রম কার্ড পেলেই তিনি শেষের রেজিস্টার্ড শ্রমিক হিসাবে বিবেচিত হবেন এবং ৬০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাবেন। শুধু তাই নয়, বেকার, শ্রমজীবী মানুষ, দিন মজুরদের ও তার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিয়ে থাকে। কিভাবে এই কার্ড পাবেন, কি কি সুবিধা পাবেন, কার্ড পেতে কিভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।
E-Shram Card Benefits details
আজকাল অসংগঠিত শ্রমিকদের জীবনটা খুবই কঠিন, কিন্তু সরকারের ই-শ্রম কার্ড স্কিম (E Shram Card) এসেছে তাদের হাতে একটা শক্ত ভরসা দিতে। এই কার্ডটা নিয়ে আপনি মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাবেন বুড়ো বয়সে, যা আপনার জীবনকে একটু সহজ করে তুলবে। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের এই উদ্যোগ অসংগঠিত শ্রমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি হয়েছে। দিনমজুর, রিকশাচালক বা ঘরের কাজের লোক হলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট। এই লেখায় আমরা সহজ করে বলব কীভাবে এই স্কিমের লাভ নেবেন। চলুন, বিস্তারিত জানি।
ই-শ্রম কার্ড কী এবং কেন দরকার?
ই-শ্রম কার্ড হলো একটা স্মার্ট আইডি, যা অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা দেয়। এর মাধ্যমে আপনি সরকারের বিভিন্ন সাহায্য পাবেন, যেমন বীমা বা পেনশন। এই কার্ড না থাকলে অনেক সুবিধা হাতছাড়া হয়ে যায়। এটা রেজিস্টার করলে আপনার একটা ইউনিক নম্বর পাবেন, যা সব কাজে কাজে লাগবে। সরকার চায় প্রত্যেক শ্রমিক এর আওতায় আসুক। এতে আপনার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়।
পেনশন স্কিমের বিস্তারিত লাভ
প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মণ্ডন যোজনার সাথে ই-শ্রম কার্ড যুক্ত হলে ৬০ বছর বয়সে মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাবেন। এই পেনশনের জন্য কাজের সময় কম অবদান দিতে হবে, সরকারও যোগ দেবে। এতে বুড়ো বয়সে আপনার খরচ চলে যাবে। শুধু কথায় নয়, এটা আসল সাহায্য। অনেক শ্রমিক এখনই এর লাভ নিচ্ছে।
ই-শ্রম কার্ডের অন্যান্য সুবিধা
ই-শ্রম কার্ডে শুধু পেনশন নয়, দুর্ঘটনায় ২ লক্ষ টাকার বীমা আছে। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার আওতায় এটা। স্বাস্থ্য জরুরিতে আর্থিক সাহায্য মিলবে। ভবিষ্যতে নতুন স্কিমগুলো এর সাথে যুক্ত হবে। এতে আপনার পরিবারও নিরাপদ। সব মিলিয়ে এটা একটা সম্পূর্ণ প্যাকেজ। অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য এমন সুবিধা আগে ছিল না। এখন সরকার সচেতন হয়েছে। কার্ডটা পকেটে রাখলে সব সাহায্য পাবেন। অনেকে এর লাভ নিয়ে খুশি। আপনার জীবন বদলে যাবে এতে। দেরি না করে আজই আবেদন করুন।
আরও পড়ুন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা বাড়ছে? প্রতিমাসে ১৫০০ ও ১৮০০ টাকা করে দেবে?
যোগ্যতার শর্তাবলী: কে আবেদন করতে পারবে?
ই-শ্রম কার্ডের জন্য আপনার বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। আপনি যদি অসংগঠিত খাতে কাজ করেন, তাহলে পারফেক্ট। ইপিএফ বা ইসিকের আওতায় না থাকলে ভালো। আধার কার্ড মোবাইলের সাথে লিঙ্কড থাকতে হবে। একটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও দরকার। এই শর্ত পূরণ করলে আবেদন সহজ। সবাই এর যোগ্য, শুধু ধাপগুলো ফলো করুন।
অসংগঠিত শ্রমিক সুরক্ষা স্কিমের অধীনে এই যোগ্যতা নির্ধারিত। আপনার কাজ যদি দৈনিক মজুরি ভিত্তিক হয়, তাহলে চিন্তা নেই। সরকার চায় কোনো শ্রমিক বাদ না পড়ুক। এতে মহিলা শ্রমিকদেরও বিশেষ সুবিধা। যাচাইয়ের জন্য আধারই যথেষ্ট। এখনই চেক করুন আপনার যোগ্যতা।
ই শ্রম কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া
- ই-শ্রম কার্ড আবেদন করতে প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ যান।
- হোমপেজে রেজিস্ট্রেশন অপশন ক্লিক করুন।
- আধার নম্বর আর ক্যাপচা দিয়ে ওটিপি চেয়ে নিন।
- ওটিপি দিয়ে যাচাই করুন পরিচয়।
- এরপর ব্যক্তিগত তথ্য আর ব্যাঙ্ক ডিটেলস পূরণ করুন।
- সাবমিট করলে কার্ড ডাউনলোড করুন। এটা খুব সহজ প্রক্রিয়া।
E-Shram Card এর অনলাইন আবেদন না করতে পারলে নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে যান। সেখানে সাহায্য পাবেন ফ্রি। প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৫ দিনের মধ্যে কার্ড পাবেন। কোনো ফি লাগবে না। এই স্কিমের জন্য লক্ষাধিক লোক আবেদন করেছে। আপনার টার্ন এলে দেরি করবেন না। সরকারি পোর্টালে সব তথ্য সঠিক রাখুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের জন্য আধার কার্ডটা সবচেয়ে জরুরি। মোবাইল নম্বর আধারের সাথে যুক্ত থাকুক। ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি দিন। একটা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে। এগুলো ছাড়া আবেদন সম্পূর্ণ হবে না। সব কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করুন। এতে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করতে সময় লাগবে না। বাড়িতেই থাকা জিনিস। যদি কোনো সমস্যা হয়, হেল্পলাইনে কল করুন। সরকার এই স্কিমকে সহজ করার জন্য চেষ্টা করছে। আপনার কাগজ যাচাই হলে কোনো ঝামেলা নেই। এখনই শুরু করুন প্রস্তুতি।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ৫০০০০ টাকা করে দিচ্ছে। এইভাবে আবেদন করুন।
উপসংহার
ই-শ্রম কার্ড স্কিম অসংগঠিত শ্রমিকদের জীবনযাত্রা উন্নত করার একটা বড় পদক্ষেপ। মাসিক ৩০০০ টাকা পেনশন ছাড়াও বীমা আর সাহায্যের দরজা খুলে যায়। যদি আপনি এই খাতে কাজ করেন, তাহলে এটা আপনার অধিকার। সহজ প্রক্রিয়ায় এখনই যোগ দিন। সরকারের এই উদ্যোগে লক্ষ লক্ষ লোক উপকৃত হচ্ছে। আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করুন এর মাধ্যমে। চলুন, এই সুযোগটা হাতছাড়া করবেন না।
