LPG Cylinder: ইরান ও ইজরায়েল ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাস সঙ্কট। বন্ধ হলো এই পরিষেবা

ইরান ও ইজরায়েল ইস্যুর রেশ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে (LPG Cylinder). এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সামলাতে তেল সংস্থাগুলো আপাতত নতুন করে এলপিজি ডবল সিলিন্ডার কানেকশন (LPG Connection) দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলকাতায় ইতিমধ্যে রান্নার গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পৌঁছে গেছে। এর ফলে যারা বাড়িতে অতিরিক্ত একটি সিলিন্ডার রাখতে চাইছিলেন, তাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা না ফেরা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

Double LPG Cylinder Connection Suspended

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যা এখন ভারতের হেঁশেলেও দৃশ্যমান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের রান্নার গ্যাসের (LPG Gas) একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আমদানি করা হয়। যুদ্ধের কারণে যদি এই সরবরাহ পথটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভারতের বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকার ও তেল সংস্থাগুলো মজুত গ্যাস সঠিক ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। সাধারণ গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

কেন বন্ধ হলো ডবল সিলিন্ডার কানেকশন?

তেল সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ দিনের মতো এলপিজি (liquified petroleum gas) মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জোগানে টান পড়তে পারে যা সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করবে। এই আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক আগেভাগেই অতিরিক্ত সিলিন্ডার (Double LPG Cylinder) সংগ্রহ করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। যদি সবাই একসঙ্গে বাড়তি সিলিন্ডার নিতে শুরু করেন, তবে বর্তমান মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। সেই সংকট এড়াতেই আপাতত নতুন করে ডবল কানেকশন দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। যারা একটি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের এখন সেই একটি দিয়েই কাজ চালাতে হবে।

আমদানির ওপর নির্ভরতা ও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এই আমদানিকৃত গ্যাসের সিংহভাগই আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যা জাহাজের মাধ্যমে ভারতে পৌঁছায়। এই জাহাজগুলোকে অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালী পার হয়ে আসতে হয়। যুদ্ধের কারণে এই জলপথ যদি অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তবে গ্যাসের চালান ভারতে পৌঁছাতে দেরি হবে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নির্ভরশীলতাই বর্তমান সময়ে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানির দাম ও বাজারে গুজবের প্রভাব

ইরান ও ইজরায়েল ইস্যু শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি (Fuel Price Hike) নিয়ে নানা গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এর ফলে পেট্রল পাম্পগুলোতেও গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেকে ট্যাঙ্ক ভর্তি করে রাখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখনই পেট্রল বা ডিজেলের জোগান নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। দাম কিছুটা বাড়তে পারলেও বাজারে পর্যাপ্ত তেলের জোগান বর্তমানে বজায় রয়েছে। ডিলারদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই পরিস্থিতির স্থায়িত্বের ওপরই আগামী দিনের তেলের দাম নির্ভর করছে। অহেতুক গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন, যুব সাথীর টাকা পেয়েছেন, এখানে স্ট্যাটাস দেখুন, কবে পাবেন।

গ্রাহকদের জন্য বর্তমান নির্দেশিকা ও সতর্কতা

LPG ডিস্ট্রিবিউটররা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে গ্রাহকরা দ্বিতীয় সিলিন্ডারের আবেদন করলেও তা এই মুহূর্তে কার্যকর করা হবে না। সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো উৎসবের মরশুম বা সাধারণ সময়ে যেন রান্নার গ্যাসের কোনো ঘাটতি না হয়। একক সিলিন্ডার গ্রাহকদের রিফিল করার ক্ষেত্রে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনো বড় বাধার কথা জানানো হয়নি। তবে বুকিং করার সময় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্যাস ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় ডবল সিলিন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থাগুলো।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা

ইরান এবং ইজরায়েলের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। ভারত তার বিকল্প উৎসগুলো খোঁজার চেষ্টা করছে যাতে একক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হয়। বর্তমানে মজুত থাকা গ্যাসের পরিমাণ দিয়ে এক মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের এই ঝুঁকি কমানোর জন্য নতুন নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত সাধারণ নাগরিকদের ধৈর্য ধরার এবং গ্যাস অপচয় রোধ করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে অনুরোধ করছে কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!