সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলো। এবং সেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ও প্রক্রিয়া শুরু হলো। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মীরা চাইলেই তার বকেয়া ডিএ এর পরিমাণ সহজেই জানতে পারবেন। তবে এই নির্দেশিকার পর কয়েকটি প্রশ্ন ও উঠছে। প্রথমত এই টাকা পিএফ এ পাবেন, নাকি সরাসরি, সেটাও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এছাড়া শিক্ষকেরা এই টাকা পাবেন কিনা, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই সমস্ত নিয়েই বিস্তারি আলোচনা করা হলো।
Dearness Allowance notification & Calculation
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) প্রদানের প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য অর্থ দপ্তর বকেয়া ডিএ বিল তৈরির জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করেছে। এই নতুন নিয়মের ফলে আইএফএমএস (IFMS) পোর্টালের মাধ্যমে কর্মচারীরা খুব দ্রুত তাদের পাওনা টাকা হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত ৪ শতাংশ হারে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যাতে ভুলভ্রান্তি এড়িয়ে দ্রুত বিল জমা দিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই নির্দেশিকাটি সাজানো হয়েছে। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে স্বচ্ছতা বজায় রেখে অর্থপ্রদান নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বিল তৈরির নতুন নির্দেশিকা
রাজ্যের অর্থ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশিকাটি মূলত ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কীভাবে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বিল প্রস্তুত করতে হবে। কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে পে-ম্যাট্রিক্সের হিসাব—সবটাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে গণনায় ভুল না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই সরকারি আদেশে। নতুন এই নির্দেশিকাটি আসার ফলে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও গতি আসবে। এখন থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমেই এই বিলের কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এর ফলে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
IFMS Portal থেকে বকেয়া ডিএ দেখার প্রক্রিয়া
বকেয়া ডিএ বিল তৈরির জন্য ডিডিও-দের প্রথমে এইচআরএমএস (HRMS) মডিউলে লগ-ইন করতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট অপশন থেকে ‘Arrear DA Bill’ ট্যাবটি খুঁজে বের করে পরবর্তী কাজ শুরু করতে হবে। প্রত্যেক কর্মচারীর নাম ও সার্ভিস বুক অনুযায়ী বকেয়া টাকার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোর্টালে দৃশ্যমান হওয়ার কথা। তবে যদি কোনো তথ্যে অসঙ্গতি থাকে, তবে সেটি সংশোধনের সুযোগও এই পদ্ধতিতে রাখা হয়েছে। সব তথ্য যাচাই করার পর বিলটি ডিজিটাল সিগনেচারের মাধ্যমে ট্রেজারিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই অনলাইন প্রক্রিয়ার ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে এবং কাজের স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত নির্ভুলভাবে এবং কম সময়ে বেশি সংখ্যক বিল প্রসেস করাই এই নতুন সফটওয়্যার আপডেটের মূল উদ্দেশ্য।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা এরিয়ার ডিএ প্রদানের গুরুত্ব ও প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বকেয়া ডিএ (Arrear DA) প্রদানের সিদ্ধান্তটি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটাবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই বকেয়া টাকা হাতে পাওয়া সরকারি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত বড় একটি পাওনা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং দাবির পর এই পদক্ষেপ নেওয়ায় কর্মমহলে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করতে চেয়েছে যে তারা কর্মচারীদের পাওনা মেটাতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। যদিও কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় এই ডিএ-র পরিমাণ নিয়ে অনেকের মনে ভিন্ন মত রয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ২৫% শতাংশ এরিয়ার ডিএ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া একটি বড় ইতিবাচক খবর। সঠিক সময়ে এই বিলগুলো পাশ হয়ে গেলে উৎসবের মরসুমের আগেই কর্মীরা হাতে টাকা পেতে পারেন।
ডিএ বিল তৈরির সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে
বিল তৈরির সময় ডিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ক্লার্কদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি এন্ট্রি পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে কোনো কর্মচারী যদি এই সময়ের মধ্যে অবসর গ্রহণ করেন বা বদলি হন, তবে তাদের হিসাব আলাদাভাবে করতে হবে। ইনক্রিমেন্ট এবং পে-রিভিশনের বিষয়গুলো মাথায় রেখে বকেয়া টাকার হিসাব কষলে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়। পোর্টালের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কোনো বিল আটকে গেলে দ্রুত আইটি সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। ভুল বিল সাবমিট করলে পরবর্তীতে সেটি সংশোধন করা বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রথম থেকেই গাইডলাইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে এগোলে কোনো বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে কোনো গাফিলতি কাম্য নয় বলে মনে করছে অর্থ দপ্তর।
শিক্ষকেরা বকেয়া ডিএ পাবেন তো?
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যে শিক্ষকেরা এই ডিএ পাবেন তো? মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার সময়ে সেখানে শিক্ষক ও পঞ্চায়েত কর্মীদের কথাও উল্লেখ ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে তা দেখা যায়নি। তবে ROPA 2019 এর বিজ্ঞপ্তি যেমন শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রকাশিত হয়েছিলো, এখেত্রেও আলাদা করে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বকেয়া সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও পাওয়ার জন্য। এবার এটাই দেখার সরকার এই নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়।
