মহার্ঘ ভাতা পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের অধিকার … আদালতে জানালো নবান্ন। বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় খবর

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বা ডিএ বৃদ্ধির মামলায় (DA Increase) সরকার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন হলফনামা দাখিল করেছে। এই হলফনামায় ডিএ সরকারি কর্মীদের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত এই মামলা বকেয়া ডিএ এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। সরকারের বক্তব্য অনুসারে, ডিএ বৃদ্ধির হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই পরিবর্তন কর্মীদের আর্থিক অবস্থাকে উন্নত করতে সাহায্য করবে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শেষের দিকে এই আপডেট এসেছে, যা কর্মীদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিত জানব এই মামলার সব দিক নিয়ে।

মহার্ঘ ভাতা – ডিএ মামলার পটভূমি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির (DA Hike) দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। পঞ্চম বেতন কমিশনের (5th Pay Commission) সুপারিশ ২০১৫ সালে কার্যকর হয়, কিন্তু ডিএ’র হার নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। কর্মীরা দাবি করেন যে মূল্যসূচক সূচকে অনুসারে ডিএ বাড়ানো উচিত। সরকার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে। বকেয়া ডিএ’র পরিমাণ বিপুল, যা কর্মীদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। এই মামলা শুধু আর্থিক নয়, কর্মীদের অধিকারের প্রশ্নও তুলেছে। সরকারের সাম্প্রতিক হলফনামা এই বিতর্কে নতুন মোড় এনেছে।

সরকারের হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

সরকারের অতিরিক্ত হলফনামায় ডিএকে কর্মীদের মৌলিক অধিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি একটি বড় স্বীকৃতি, যা আগে সরকার এড়িয়ে গিয়েছিল। দলিলে বলা হয়েছে, “ডিএ সরকারি কর্মীদের অধিকার হতে পারে”। এই বক্তব্য মামলার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। পঞ্চম বেতন কমিশনের প্রেক্ষাপটে এই অধিকারের কথা উঠেছে। সরকার আরও জানিয়েছে যে ডিএ বৃদ্ধি কর্মীদের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এই হলফনামা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দাখিল করা হয়েছে।

ডিএ বৃদ্ধির হার: ৮০% এর দাবি

হলফনামায় স্পষ্টভাবে ধাপে ধাপে ৮০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ আছে। এই বৃদ্ধি পঞ্চম বেতন কমিশনের আমলে ঘটেছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা এই হার পূর্ণরূপে পাননি বলে অভিযোগ করেন। এই ৮০% নিছকই গোঁজামিল বলে মনে করেন অনেকেই। সরকার স্বীকার করেছে যে এই বৃদ্ধি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে যুক্ত। বকেয়া ডিএ’র হিসাবে এই ৮০% গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি মূল্যসূচক সূচকের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। কর্মীদের জন্য এই বৃদ্ধি আয় বাড়ানোর সুযোগ দেবে। সরকারের এই স্বীকৃতি মামলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুন, লক্ষ্মীর ভান্ডার, রান্নার গ্যাস, রেশন, টিকিট, পেনশন, ব্যাংকিং। ১ অক্টোবর থেকে দেশ জুড়ে বদলে গেল এই ৬টি নিয়ম।

পঞ্চম বেতন কমিশনের ভূমিকা

পঞ্চম বেতন কমিশন ২০১০ সালে (5th Paycommission) গঠিত হয় এবং ২০১৫ সালে এর সুপারিশ কার্যকর হয়। এই কমিশন ডিএ’র হার নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে। সরকারি কর্মীদের বেতন সংরচনায় এটি বড় পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু ডিএ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটায় মামলা হয়েছে। হলফনামায় কমিশনের সুপারিশ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এই কমিশনের প্রভাবে কর্মীদের মোট বেতন বেড়েছে। বর্তমান মামলা এই কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে।

বকেয়া ডিএ রর মীমাংসা

বকেয়া ডিএ’র (Dearness Allowance) বিষয়ে হলফনামায় বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সরকার জানিয়েছে যে ৮০% বৃদ্ধির অংশ এখনও বকেয়া। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কর্মীদের দাবি অনুসারে, এটি তাৎক্ষণিক মীমাংসা দাবি করে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে এই বকেয়া পরিশোধ হতে পারে। এটি কর্মীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। সরকারের বক্তব্যে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা উল্লেখ নেই। এই ইস্যু মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

কর্মীদের জন্য প্রভাব

এই হলফনামা পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের জন্য সুসংবাদ। ডিএ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেলে ভবিষ্যতে দাবি সহজ হবে। ৮০% বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে মাসিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বকেয়া ডিএ পেয়ে কর্মীরা অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এটি পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। সরকারের এই পদক্ষেপ কর্মী-সরকার সম্পর্ক মজবুত করবে। মামলার ফলাফল কর্মীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

আরও পড়ুন, মাত্র 30 পয়সার স্টক হলো 25.5 টাকা! 1000 টাকা 5 বছরে 8 লাখ টাকা! দুর্দান্ত রিটার্ন দিয়েছে এই স্টক

সাম্প্রতিক আপডেট ও সম্ভাব্য ফলাফল

সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহে এই হলফনামা দাখিল হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এখনও চূড়ান্ত আদেশ দেয়নি। কর্মী সংগঠনগুলি এই বিকাশকে ইতিবাচক বলে মেনে নিয়েছে। সম্ভাব্য ফলাফলে ডিএ পূর্ণ বৃদ্ধি এবং বকেয়া পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এটি অন্যান্য রাজ্যের জন্যও উদাহরণ স্থাপন করবে। কর্মীরা এখন আশাবাদী। পরবর্তী শুনানিতে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!