পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে বাংলার যুবশক্তি প্রকল্প (Banglar Yuva Shakti) চালু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি পোর্টাল চালু হয়েছে। যারা নতুন করে আবেদন করতে চান তারা কীভাবে আবেদন করবেন, কি কি লাগবে সমস্ত কিছু বিস্তারিত জেনে নিন।
Banglar Yuva Shakti – বাংলার যুবশক্তি বেকার ভাতা প্রকল্প
রাজ্যের বেকার তরুণদের খরচ চালাতে সাহায্য করতে রাজ্য বাজেট বাংলার যুবশক্তি প্রকল্পের কথা ঘোষণা হয়। বলা হয়, অক্টোবর মাস থেকেই এই সুবিধা মিলবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরির কাজ চললেও তা এখনও সাধারণের জন্য পুরোপুরি খোলেনি। মনে করা হচ্ছে, উৎসবের দিনগুলি কাটলেই এই বিষয়ে স্পষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে।
বাংলার যুবশক্তি প্রকল্পের সুবিধা
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ভাতা দেওয়া হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দুটি ভিন্ন স্তরে উপভোক্তারা এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। স্নাতক পাস করা কর্মহীন প্রার্থীরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে সাহায্য পাবেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক পাস অথচ স্নাতক নন, এমন প্রার্থীরা মাসিক দুই হাজার টাকা পাবেন। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ফর্ম পূরণে বড় সুবিধা হবে।
যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদনের যোগ্যতা
বাংলার যুবশক্তি প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ২১ থেকে ৪০ বা ৪৫ বছরের মধ্যে থাকা আবশ্যক। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের মাসিক ও বার্ষিক আয় নির্দিষ্ট সরকারি আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া প্রার্থীর আধার কার্ডের সাথে নিজস্ব একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
বাংলার যুবশক্তি স্ট্যাটাস চেক
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রার্থীরা সহজেই তাঁদের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। ফর্ম জমা করার পর প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর পাবেন। সেই নম্বরটি ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে লগইন করলেই বর্তমান স্ট্যাটাস জানা যাবে। আবেদন গৃহীত হয়েছে নাকি কোনো কাগজপত্রে ভুল রয়েছে, তা স্ক্রিনে স্পষ্ট দেখা যাবে। এর ফলে সরকারি অফিসে না গিয়েও ঘরে বসেই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করা সম্ভব হবে।
উপসংহার
শিক্ষিত ও কর্মহীন তরুণদের স্বস্তি দিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার দিনগুলিতে এই মাসিক আর্থিক সাহায্য বহু পরিবারকে কিছুটা নির্ভরতা দেবে। তবে দ্রুত অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন পোর্টাল চালু না হলে উৎকণ্ঠা থেকেই যাবে। প্রশাসন পুজোর পরেই এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে সাধারণ যুবসমাজ আশা রাখছে। সঠিক রূপায়নের মাধ্যমেই এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফল হয়ে উঠবে।