রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ বাংলার যুবশক্তি প্রকল্প (Banglar Yuva Shakti Scheme). পড়াশোনা শেষ করেও বহু তরুণ চাকরি বা উপার্জনের কোনো দিশা পাচ্ছেন না। তাঁদের আর্থিক সহায়তা ও স্বস্তি দিতে এই আর্থিক অনুদান চালু করার বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে এই সরকারি ভাতার ঘোষণা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আজকের প্রতিবেদনে এই প্রকল্পের সমস্ত খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
Yuva Shakti Scheme – যুবশক্তি বেকার ভাতা প্রকল্প
রাজ্য বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের স্বস্তি দিতে এই জনমুখী ভাতার ঘোষণা করা হয়েছিল। যুবশক্তি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার সময়ে তরুণদের হাতখরচ ও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া। এই আর্থিক সাহায্য দিয়ে তরুণরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। রাজ্য সরকারের এই মানবিক পদক্ষেপ তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশার আলো জুগিয়েছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এমন আর্থিক ভাতা বেকার তরুণদের জন্য খুবই কার্যকর হতে চলেছে।
সেবা সেতু অভিযান ক্যাম্পে আবেদন শুরু
রাজ্যের ব্লকে ব্লকে সেবা সেতু অভিযান বা জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন এই সরকারি ক্যাম্প থেকেই যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্ম পাওয়া যাবে কি না। সরকারি প্রাথমিক তালিকায় এই প্রকল্পের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের ফর্ম মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে ক্যাম্প চলাকালীন যুক্ত করা হয়েছিল। তাই নিকটবর্তী সেবা সেতু ক্যাম্পে খোঁজ নিলে সঠিক তথ্য ও নির্দেশিকা সহজেই জানতে পারবেন।
কারা কত টাকা পাবেন?
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ নির্দিষ্টভাবে ভাগ করা হয়েছে। স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট পাশ বেকার তরুণ-তরুণীরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে যারা মাধ্যমিক বা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তারা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা পাবেন। এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হবে। প্রতি মাসে নিয়মিত এই অর্থ পাওয়ার ফলে বেকার চাকরিপ্রার্থীরা বড় রকমের আর্থিক স্বস্তি লাভ করবেন।
যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রার্থীর বয়স নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে এবং তাঁকে সম্পূর্ণ কর্মহীন বা বেকার থাকতে হবে। আবেদনের জন্য মাধ্যমিক পাশ থেকে শুরু করে স্নাতক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। আবেদনকারী অন্য কোনো সরকারি চাকরি বা নিয়মিত সরকারি ভাতা পেলে এই সুবিধা পাবেন না। পারিবারিক আয়ের ক্ষেত্রেও সরকারের নির্ধারিত নির্দিষ্ট শর্তাবলী ও নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যুবশক্তি প্রকল্পে কি কি লাগবে?
আবেদন জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স কপি সঙ্গে রাখতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র যেমন মাধ্যমিকের মার্কশিট বা গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার পরিষ্কার জেরক্স কপি ও সচল মোবাইল নম্বর লাগবে। সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি এবং বৈধ রেসিডেন্সিয়াল বা পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন
যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য শীঘ্রই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল চালু হবে। পোর্টাল চালু হলে প্রার্থীরা ঘরে বসেই কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অফলাইন পদ্ধতির ক্ষেত্রে সেবা সেতু ক্যাম্প বা স্থানীয় বিডিও অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যেতে পারে। ফর্মটি নির্ভুলভাবে পূরণ করে সমস্ত নথিপত্র সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট জমা কাউন্টারে জমা করতে হবে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সহজ রাখতে সরকারের তরফ থেকে হেল্পলাইন নম্বরের সুবিধাও রাখা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সেবা সেতু অভিযান বা জনকল্যাণ শিবিরে যোগাযোগ করুন।