DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিলো রাজ্য সরকার। Grant-in Aid কর্মীরা পাবেন তো?

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের (Government Employees) বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বা DA Arrears নিয়ে দীর্ঘদিনের মামলা চলছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় কর্মীরা কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে রাজ্য সরকার আদালতে একটি নতুন হিসাব জমা দিয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA Arrears) কত, Grant-in Aid কর্মীদের নিয়ে রাক্য সরকারের বর্তমান অবস্থান, ইত্যাদি নিয়ে কৌতূহল ও বিস্তর। এই প্রতিবেদনে এইসব নিয়ে আলোচনা করা হলো।

DA Arrears: বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান

বকেয়া ডিএ (DA Arrears) দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকার বরাবরের মতোই আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, আগের বছরগুলিতে কর্মীদের পেছনে ইতিমধ্যে অনেক টাকা খরচ করা হয়েছে। ডিএ (Arrear DA) এবং অবসরপ্রাপ্তদের ডিআর মেটাতে কোষাগার থেকে ধাপে ধাপে প্রচুর অর্থ ছাড়া হয়েছে। এই বিপুল খরচের কারণে সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ পড়েছে। তাই সরকার নিজেদের সাধ্য ও খরচের হিসাব সামনে রেখেই এগোতে চাইছে।

সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা

গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা পড়েছে। এই রিপোর্টে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট খরচের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সরকার আদালতকে জানিয়েছে যে অতীতে কোন খাতে কত টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই খতিয়ান সামনে আসার পর মামলার গতিবিধি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলি এখন সরকারের এই হিসাব ভালো করে খতিয়ে দেখছে।

গ্রান্ট-ইন এইড কর্মীরা বকেয়া ডিএ পাবেন? এখানে দেখুন

কত টাকা বকেয়া আছে?

সরকারি হিসাব মতে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএ ও ডিআর মেটাতে প্রায় ৮,১০৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কর্মীদের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৫,০৪৪.৭৯ কোটি টাকা। ওই একই সময়ে পেনশনভোগীদের জন্য ছাড়া হয়েছে প্রায় ১,৮৭৩.৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের জন্য প্রায় ১,১৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এখনও কর্মীদের সম্পূর্ণ পাওনা মিটেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।

আরও পড়ুন, পুজোর টাকা একাউন্টে ঢুকে গেল। চেক করে নিন

Grant-in Aid কর্মীরা পাবেন?

সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কর্মীরাও সমানভাবে ডিএ দাবি করছেন। সরকারি রিপোর্টে এই কর্মীদের পাওনার পুরো হিসাব স্পষ্ট আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দাবিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘদিন বকেয়া না পাওয়ায় এই কর্মীরাও বেশ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। আদালত এই গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।

উপসংহার

রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষ এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। আগামী শুনানিতে সরকারের দেওয়া এই খরচের হিসাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। সরকারের আর্থিক ক্ষমতা এবং কর্মীদের ন্যায্য দাবির মধ্যে আদালত কী রায় দেয়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এই সমস্যার সম্মানজনক সমাধান হলে কর্মীদের ক্ষোভ দূর হবে। সবার নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!