LPG Price: রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লো, নতুন গ্যাস কানেকশন বন্ধ, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ভর্তুকিহীন সিলিন্ডার। পুজোর মুখে রান্নার গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি

পুজোর মুখে অবশেষে রান্নার গ্যাসের দাম তথা LPG Price বেড়ে গেল। বর্তমান সময়ে এই রান্নার গ্যাস (Liquefied Petroleum Gas) প্রতিটি গৃহস্থালি এবং ছোট-বড় ব্যবসা (LPG Price) প্রতিষ্ঠানের একটি অত্যন্ত জরুরি উপাদান। এই সময়ে যদি গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, তবে পুজোর খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। এছাড়া নতুন গ্যাস কানেকশন ও বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ডিলারেরা ১৪ কেজির ভর্তুকি সিলিন্ডারের বুলে ১০ কেজির ছোট সিলিন্ডার কিনতে উতসাহ দিচ্ছেন। যাদের গ্যাসের খরচ আরও বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের দাম ও প্রাপ্তি নিয়ে চারিদিকে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

Domestic LPG Price – রান্নার গ্যাসের দাম

সারাদেশের সাধারণ গৃহস্থের কাছে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় ছিল গৃহস্থালি ব্যবহারের সিলিন্ডারের দামের স্থিরতা। বর্তমানে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের দর প্রধান শহরগুলিতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা একেবারে সস্তা নয়। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেট এই নির্দিষ্ট খরচের উপর অনেকখানি নির্ভরশীল থাকে। রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়লে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে সংসারের অন্য খরচ সামলাতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক নানা প্রশাসনিক নিয়মের ফলে সেই স্বস্তিতেও এখন নতুন সংশয় তৈরি হয়েছে।

নতুন গ্যাস কানেকশন বন্ধ

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো ১৪ কেজির ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের নতুন সংযোগ পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সরবরাহে চরম ঘাটতি রয়েছে এই অজুহাত দেখিয়ে বহু গ্যাস ডিলার সাধারণ গৃহস্থের নতুন আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল করছেন। গ্রাহকরা গ্যাস অফিসে বারবার গিয়েও খালি হাতে বা একরাশ বিরক্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সাশ্রয়ী কানেকশন পেতে সাধারণ মানুষকে এখন নানা ধরনের কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। বহু এলাকায় ডিলাররা সংযোগ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে রেখেছেন।

রান্নার গ্যাসের দাম ও বেড়ে গেল

বসত বাড়ির গ্যাসের দামে আপাতত না বাড়লেও, ব্যবসায়িক ব্যবহারের গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে নতুন মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। মাসের প্রথম দিন থেকেই ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উৎসবের ঠিক আগে আগে জ্বালানির এমন চড়া দাম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি বোঝার মতো চেপে বসেছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব খুব দ্রুতই হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সাধারণ খাবারের দোকানের মেনুর ওপর পড়তে চলেছে। ফলে পরোক্ষভাবে সাধারণ ক্রেতা ও খাদ্যরসিকদের পকেট থেকেই অতিরিক্ত এই অর্থ খসতে শুরু করবে।

ডমেস্টিক ও ব্যবসায়িক গ্যাসের বর্তমান দাম

বর্তমানে বাণিজ্যিক ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন মেট্রো শহরে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে গৃহস্থালির ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় প্রায় ৯৬৮ টাকা এবং দিল্লিতে প্রায় ৯৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতেও ঘরোয়া সিলিন্ডারের দর সাড়ে নয়শত টাকার আশেপাশেই স্থির রয়েছে। তবে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে নতুন করে ৬২ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দর অনেক শহরে আঠাশশো টাকা ছাড়িয়েছে। একই বাজারে দুই ধরনের সিলিন্ডারের দামের এমন ব্যবধান সামগ্রিক অর্থনীতিকে ব্যাহত করছে।

গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়লো

নতুন ভর্তুকিযুক্ত কানেকশন না পাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আধার বায়োমেট্রিক ও ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশনের কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। যেসব সাধারণ গ্রাহক সময়মতো এই বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না, তাঁদের ভর্তুকির টাকা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই অতিরিক্ত আইনি নিয়মের কারণে প্রবীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের ভয়ে অনেক প্রান্তিক মানুষ আবারও কাঠ কিংবা কয়লার প্রাচীন উনুনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ধরনের সার্বিক টানাপোড়েন সাধারণ পরিবারের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি ব্যাহত করে তুলেছে।

আরও পড়ুন, মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে বিরাট সুযোগ

ভর্তুকিহীন গ্যাস বিক্রিতে নজর

স্বাভাবিক ১৪ কেজির সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও ডিলাররা বিকল্প চ্যানেলে ছোট ১০ কেজির ভর্তুকিহীন সিলিন্ডার বিক্রিতে খুব বেশি তৎপর হয়েছেন। এই ছোট সিলিন্ডার বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ডিলাররা নানা ধরনের অস্থায়ী ক্যাম্প খুলে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। মাত্র একটি পরিচয়পত্র দেখালেই অত্যন্ত চটজলদি এবং অনায়াসে মিলছে এই চড়া মূল্যের ছোট সিলিন্ডারের সংযোগ। তবে এই ধরনের ভর্তুকিহীন গ্যাস কিনতে গ্রাহককে প্রাথমিক সংযোগ ও পরবর্তী রিফিলে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট অভিযোগ, তেল সংস্থাগুলি মুনাফা বাড়াতেই সস্তার বড় সিলিন্ডার আটকে এই ব্যয়বহুল বিকল্পের দিকে সবাইকে ঠেলে দিচ্ছে।

উপসংহার

জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বেশি দামের গ্যাস কিনতে বাধ্য করা কোনোভাবেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। রান্নার গ্যাসের মতো একটি মৌলিক উপাদানে লাগাতার এমন বিভ্রান্তি জনমানসে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। স্বচ্ছ প্রশাসনিক তদারকি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের মাধ্যমেই এই জটিল সমস্যা থেকে সাধারণ গৃহস্থকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি রোধ না করলে বাজারে সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ঠেকানো কোনোমতেই সম্ভব হবে না। সরকারের উচিত সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার কথা সবার আগে বিবেচনা করে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থাকে দ্রুত স্বাভাবিক ও সহজ করা।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!