PMFBY Scheme: কৃষকদের টাকা দিচ্ছে সরকার। আবেদন শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায়।

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কৃষক ও ভাগচাষিদের ফসলের সুরক্ষায় এবার সরকার PMFBY Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana তথা প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করলেন। আমাদের দেশে কৃষিকাজ মূলত প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি কিংবা আকস্মিক বন্যায় প্রতি বছরই মাঠের ফসল নষ্ট হয়। এর ফলে বহু কৃষক ভাই চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। কৃষকদের এই আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই চালু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY)। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠায়।

PMFBY: প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা কী?

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) হলো ভারত সরকার প্রবর্তিত একটি সর্বজনীন কৃষি বীমা প্রকল্প। দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগপোকার আক্রমণ বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল নষ্ট হলে এই বীমা আর্থিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। খরিফ ও রবি মরশুমের প্রধান খাদ্যশস্য, তৈলবীজ এবং বাণিজ্যিক ফসলের ক্ষেত্রে এই বীমা প্রযোজ্য। নামমাত্র প্রিমিয়ামে চাষিরা এই বীমার আওতায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন।

এই বীমা প্রকল্পের আওতায় আসার যোগ্যতা

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় (Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana) আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও যোগ্যতা রয়েছে। দেশের সমস্ত প্রকৃত কৃষকই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। নিজস্ব জমির মালিক চাষিরা যেমন আবেদন করতে পারেন, তেমনই ভাগচাষি বা লিজ নেওয়া জমিও এর আওতাভুক্ত। যে ফসলের জন্য বীমা করা হচ্ছে, সেই জমিতে আবেদনকারী কৃষকের সক্রিয় চাষ থাকতে হবে। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) থাকলে আবেদনের কাজ আরও অনেক সহজ হয়ে যায়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে কয়েকটি জরুরি নথি হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, কৃষকের নিজস্ব পরিচয়পত্র হিসেবে বৈধ আধার কার্ড জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়ত, জমির বৈধ খতিয়ান, পরচা বা জমি ব্যবহারের স্ব-ঘোষণাপত্র লাগবে। তৃতীয়ত, ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার জন্য সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স কপি আবশ্যক। ভাগচাষিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা কৃষি আধিকারিকের দেওয়া ফসলের শংসাপত্র জমা দিতে হয়। সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট মাপের রঙিন ছবিও আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় আবেদনের নিয়ম

এই বীমা প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য অফলাইন ও অনলাইন দুটি পদ্ধতিই চালু রয়েছে। যাঁরা স্মার্টফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত, তাঁরা অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের মোবাইল থেকেই সেলফ রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। নিকটবর্তী বাংলা সহায়তা কেন্দ্র বা সিএসসি তথ্যমিত্র কেন্দ্রে গিয়েও আবেদন জমা দেওয়া যায়। যে সমস্ত কৃষক ব্যাঙ্ক থেকে কৃষিঋণ বা কেসিসি নিয়েছেন, তাঁদের আবেদন সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখার মাধ্যমেই হয়ে যায়। কৃষি দপ্তরের বিশেষ ক্যাম্প বা স্থানীয় কৃষি বিকাশ আধিকারিক (ADA) অফিসে গিয়েও নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন, অন্নপূর্ণা যোজনা ও বার্ধক্য ভাতার টাকা নিয়ে বিরাট সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার এনারাও টাকা পাবেন

বীমার প্রিমিয়াম ও ক্ষতিপূরণের সুবিধা

এই প্রকল্পে কৃষকদের নামমাত্র প্রিমিয়াম জমা দিতে হয় এবং বাকি খরচ সরকার বহন করে। খরিফ ফসলের ক্ষেত্রে মোট বীমা অঙ্কের মাত্র ২ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়। রবি ফসলের ক্ষেত্রে এই প্রিমিয়ামের হার মাত্র ১.৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও উদ্যানপালন ফসলের জন্য চাষিকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম মেটাতে হয়। ফসল কাটার আগের বিপর্যয় থেকে শুরু করে ফসল তোলার পরবর্তী ক্ষতি পর্যন্ত এই বীমায় কভার করা হয়।

কেন প্রত্যেক কৃষকের ফসল বীমা করানো উচিত?

জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে চাষের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সামান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম ও পুঁজি নিমেষে নষ্ট হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করে। ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) মারফত পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই সুরক্ষিত চাষাবাদ ও নিশ্চিত ভবিষতের জন্য সময়মতো এই বীমায় নাম নথিভুক্ত করা প্রতিটি কৃষকের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!