৭ম বেতন কমিশনের হিসাব: মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা হলে পশ্চিমবঙ্গে মোট বেতন কত দাঁড়াবে?

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা ক্রমে ক্রমে বাড়ছে। সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন বহু প্রতীক্ষিত সপ্তম পে কমিশনের দিকে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন পে কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মচারীরা চাইছেন দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হোক। পাশাপাশি ডিএ ও বাড়ি ভাড়া ভাতার সমতা নিয়েও দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আসন্ন বাজেটের আগে এই সংক্রান্ত নানা হিসেব সামনে উঠে আসছে।

৭ম বেতন কমিশনের ইনক্রিমেন্ট এবং ডিএ নিয়ে বর্তমান অবস্থান

সাধারণত সরকারি চাকরিতে প্রতি বছর তিন শতাংশ হারে নির্দিষ্ট বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মেলে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলি এই ইনক্রিমেন্টের হার বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করার জোরালো দাবি জানাচ্ছে। এই দাবি মানা হলে প্রতি মাসের মৌলিক বেতনে বড় আর্থিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের মহার্ঘ ভাতার সঙ্গে রাজ্যের ফারাক নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সেখানে ডিএ-র হার অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ সংযোজিত হতে পারে।

৭ম বেতন কমিশনে  বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য সমীকরণ (বেসিক ₹৩০,০০০)

┌───────────────────────────────────┐
│ ইনক্রিমেন্ট দাবি : ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করার প্রস্তাব         │
│ ৩% বনাম ৫% ব্যবধান : মূলবেতনে প্রতিমাসে ₹৬০০ তফাত│
│ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর : ২.০ থেকে ৩.০ গুণ হওয়ার জল্পনা          │
│ সম্ভাব্য এরিয়ার : ₹৮০,০০০ থেকে ₹১,২০,০০০ টাকা             │
└───────────────────────────────────┘

বেসিক ৩০,০০০ টাকা হলে ইনক্রিমেন্টের পার্থক্য

ধরা যাক একজন সরকারি কর্মীর বর্তমান মূল বা বেসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা। পুরনো তিন শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলে তিনি অতিরিক্ত ৯০০ টাকা পাবেন। কিন্তু এটি পাঁচ শতাংশ করা হলে তাঁর বেতন সরাসরি ১,৫০০ টাকা বাড়বে। অর্থাৎ কেবল মূল বেতনের হিসেবেই মাসে অতিরিক্ত ৬০০ টাকার সুস্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হবে। মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা ও বাড়ি ভাড়া যুক্ত হলে এই ফারাক আরও বাড়বে।

বাড়ি ভাড়া ভাতা

ষষ্ঠ পে কমিশনের নিয়মে মূল বেতনের বারো শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা ধার্য ছিল। তবে সপ্তম পে কমিশনে কেন্দ্রীয় নিয়মের মতো শহরভিত্তিক শ্রেণিভাগ আনার দাবি উঠেছে। সেক্ষেত্রে শহরের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কর্মীদের বাড়ি ভাড়া ভাতার হারে বদল আসতে পারে। বর্তমানে মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা হলে বারো শতাংশ হারে কর্মীরা ৩,৬০০ টাকা পান। নতুন কাঠামোতে মূল বেতন পুনর্নির্ধারিত হলে এই ভাতার পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশ খানিকটা বাড়বে।

আপনার বেসিক দিয়ে হিসাব করুন

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রভাব ও এরিয়ারের সম্ভাবনা

নতুন বেতন কাঠামো কতটা লাভজনক হবে তা নির্ভর করে মূলত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর। কেন্দ্রে যেখানে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল, রাজ্যেও তেমন গুণক চালুর জোর দাবি রয়েছে। যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫ ধার্য হয়, তবে ৩০,০০০ টাকার বেসিক একলাফে ৭৫,০০০ টাকা হতে পারে। এদিকে কমিশন পূর্ববর্তী কোনো তারিখ থেকে কার্যকর হলে কর্মীরা বড় অঙ্কের বকেয়া পাবেন। সেক্ষেত্রে বকেয়া বা এরিয়ার বাবদ কর্মীরা এককালীন ৮০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।

ইন-হ্যান্ড বেতন কত হতে পারে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫ এবং আনুমানিক ভাতা যোগ হলে গ্রস বেতন লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পিএফ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি কর্তন বাদ দিয়ে কর্মীর হাতে মোটা অঙ্কের টাকা আসবে। যদিও এই সমস্ত হিসেব এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যালোচনা ও বিভিন্ন দাবির ওপর নির্ভরশীল। রাজ্য অর্থ দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা রোপা জারি না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই চূড়ান্ত বেতন কাঠামো এবং নিয়মের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকেই সকলকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!