স্কুল পড়ুয়াদের জন্য এবার ‘APAAR ID One Student Id Card নামে নতুন পরিচয়পত্র দিচ্ছে সরকার। আর ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে আপার আইডির কাজ। পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এবার চালু হতে চলেছে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়পত্র। কেন্দ্র সরকারের ‘এক দেশ, এক পরিচয়পত্র’ নীতির আওতায় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এই মেগা কর্মসূচি রূপায়ণে কোমর বেঁধে নামছে সমগ্র শিক্ষা মিশন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি স্থায়ী নম্বর তৈরি হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে একযোগে এই APAAR ID Card প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
আপার আইডি বা APAAR ID Card আসলে কী?
‘আপার’ (APAAR Card) কথাটির পুরো অর্থ হলো অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি। সহজ কথায় এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আজীবনের একটি অনন্য শিক্ষাগত পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের পরীক্ষার ফলাফল, স্কলারশিপ ও খেলাধুলার মতো যাবতীয় তথ্য এক ছাতার তলায় সংরক্ষিত থাকবে। এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে বদলির ক্ষেত্রে এই পরিচয়পত্রটি বিশেষ সহায়ক হবে। পুরো ব্যবস্থাটিকে স্বচ্ছ এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সুরক্ষিত রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হবে।
অভিভাবকদের সম্মতিপত্র বাধ্যতামূলক
নতুন এই APAAR ID পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশ অনুযায়ী অভিভাবকদের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য নথিভুক্ত করা যাবে না। প্রতিটি জেলা শিক্ষা আধিকারিককে (DEO) প্রয়োজনীয় ‘পেরেন্টাল কনসেন্ট ফর্ম’ ছাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলি এই ফর্ম অভিভাবকদের কাছে পাঠাবে এবং তাঁদের সম্মতি মিললেই কেবল আবেদন গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই পড়ুয়া বা অভিভাবকদের ওপর জোরজবরদস্তি করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্তরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
APAAR ID Card এর এই বিশাল কর্মকাণ্ড মসৃণভাবে পরিচালনা করতে প্রশাসন ইতিমধ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্প্রতি আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ কর্মশালায় প্রতিটি জেলা থেকে নোডাল শিক্ষক ও আধিকারিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার এমআইএস (MIS) কো-অর্ডিনেটর এবং নোডাল শিক্ষকদের যৌথ দায়িত্বে এই কর্মশালা পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক থেকে পাঠানো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা এসওপি (SOP) প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। তৃণমূল স্তরে যাতে কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রাথমিক মহড়া ও পাইলট ক্যাম্পের আয়োজন
আপার আইডি এর মূল কর্মসূচি শুরু করার আগে রাজ্যজুড়ে পরীক্ষামূলক ক্যাম্প বা পাইলট ড্রাইভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলার অন্তত দুটি স্কুল এবং দুটি ভিন্ন শ্রেণির ৬০ জন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের নিয়ে এই ক্যাম্প হবে। সার্কেল স্তরে নির্বাচিত স্কুলগুলিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত প্রয়োগ শেখানো হবে। এই পরীক্ষামূলক পর্বে প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর নাম তোলার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। মহড়ার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত শুধরে নেওয়া হবে।
প্রতিদিনের কাজের অগ্রগতি ও সার্বিক নজরদারি
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত স্কুলে পূর্ণাঙ্গ নথিভুক্তিকরণ বা এনরোলমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। জেলা শিক্ষা আধিকারিকরা পোর্টাল মারফত খতিয়ে দেখবেন কোন স্কুলে কতজন পড়ুয়ার আবেদন সফল হলো। স্কুল স্তর থেকে সার্কেল অফিস হয়ে এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সরাসরি জেলা শিক্ষা দফতরের টেবিলে যাবে। নতুন এই আধুনিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
