Krishak Bandhu: নতুন করে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন শুরু হলো। কৃষক বন্ধু ভেরিফিকেশন ফর্মে আইডি দিতে হবে

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের চাষিদের জন্য Krishak Bandhu নিয়ে এক বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে চালু হতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন একটি উদ্যোগ, যার নাম ‘কৃষকবন্ধু নিউ’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করে সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। মূলত অনিয়মিত আবহাওয়া, চাষের খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের বাজারদরের ওঠানামার কারণে কৃষকদের যে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়, তা থেকে মুক্তি দিতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা সরাসরি লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

Krishak Bandhu Scheme – কৃষক বন্ধু প্রকল্প ভেরিফিকেশন

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের (Krishak Bandhu Scheme) স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরনো তালিকা নতুন করে পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পুরনো তালিকা যাচাইয়ের ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ অমিল থাকা নাম বাদ পড়তে পারে। তবে কোনো যোগ্য কৃষক যাতে এই আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। নতুন করে যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা তৈরি করতে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে আবেদনপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে এই প্রকল্পের জন্য আলাদা করে আর আবেদন করতে হবে না, যার ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই কমে যাবে।

কৃষকবন্ধু নিউ প্রকল্পের যোগ্যতা

নতুন এই প্রকল্পে (Krishak Bandhu) আবেদন করার জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট কিছু জরুরি তথ্য ও নথিপত্র তৈরি রাখতে হবে। নতুন আবেদন এবং ভেরিফিকেশন ফর্ম পূরণ করার সময় কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাঁর জমি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফর্মে আবেদনকারীর নাম, অভিভাবকের নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড বা এপিক নম্বর এবং প্রধান পেশার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া আবেদনকারী ব্যক্তি আয়কর প্রদান করেন কি না এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর প্রয়োজনীয় তথ্যও এই ফর্মে চাওয়া হচ্ছে। Krishak Bandhu এর সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর নির্দিষ্ট স্থানে উপভোক্তাকে নিজের স্বাক্ষর করতে হবে।

কৃষক বন্ধু ভেরিফিকেশন ফর্ম

আবেদন প্রক্রিয়াটি সফল করতে ফর্মের সঙ্গে বেশ কিছু নথির জেরক্স কপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারী ও তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর আধার কার্ডের পাশাপাশি ভোটার কার্ডের কপিও জমা দিতে হবে। এর সাথে ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার পরিষ্কার জেরক্স কপি লাগবে, যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড পরিষ্কার দেখা যায়। জমির ক্ষেত্রে জমির আরওর (ROR) বা খতিয়ানের কপি এবং জমি দখল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে। বাংলার ভূমি পোর্টাল থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখে আধিকারিকরা এই নতুন আবেদনগুলি যাচাই করবেন

আরও পড়ুন, আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন

কৃষকবন্ধু আইডি নম্বর খোঁজার সহজ অনলাইন পদ্ধতি

কৃষকবন্ধু ভেরিফিকেশন ফর্ম পূরণ করতে গেলে (Krishak Bandhuerification Form) প্রত্যেক আবেদনকারীর একটি নিজস্ব অনন্য নম্বর প্রয়োজন হয়, যা কৃষকবন্ধু আইডি (KB ID) নামে পরিচিত। এই আইডি নম্বরটি কৃষকেরা বাড়িতে বসেই নিজের মোবাইল ফোনের সাহায্যে খুব সহজে অনলাইন থেকে বের করে নিতে পারবেন। এর জন্য ভোটার কার্ড, আধার নম্বর, নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যে কোনো একটি তথ্য ব্যবহার করলেই চলবে। সবার প্রথমে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টাল-এ প্রবেশ করতে হবে। পোর্টালের হোম পেজে গিয়ে সরাসরি “নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য” (Registered Farmer Information) নামের অপশনটি খুঁজে নিয়ে সেখানে ক্লিক করতে হবে।

এরপর স্ক্রিনে একটি নতুন পেজ খুলবে যেখানে আধার বা ভোটার কার্ডের নম্বর দেওয়ার মতো একাধিক বিকল্প দেখতে পাওয়া যাবে। আপনার কাছে যে তথ্যটি মজুত আছে সেটি নির্বাচন করে নির্ধারিত বক্সে সেই সঠিক নম্বরটি বসিয়ে দিতে হবে। এরপর নিচে থাকা সিকিউরিটি চেক অর্থাৎ “I’m not a robot” অপশনটিতে টিক চিহ্ন দিয়ে সার্চ বাটনে চাপ দিতে হবে। সার্চ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়া মাত্রই স্ক্রিনের ওপর কৃষকের নাম, স্ট্যাটাস এবং তার ঠিক পাশেই প্রয়োজনীয় ‘KB ID’ নম্বরটি ভেসে উঠবে। এই নম্বরটি খাতায় লিখে রেখে খুব সহজেই আপনারা আপনাদের ভেরিফিকেশন ফর্মটি সম্পূর্ণ পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!