Indian Passport: ভারতীয় পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। বাড়লো পাসপোর্ট তৈরির খরচ

ভারতের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় (Indian Passport) একসঙ্গে দুটি বড়সড় বদল আনল কেন্দ্র। একদিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো যে, ভারতীয় পাসপোর্ট আর দেশের নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য হবে না। অন্যদিকে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হলো পাসপোর্ট আবেদনের সরকারি ফি। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়ম ও বর্ধিত খরচের জেরে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

Indian passport শুধুই ‘ভ্রমণ নথি’, নাগরিকত্বের পরিচয় নয়

১৪তম পাসপোর্ট সেবা দিবসে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই নতুন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাটি করা হয়েছে। সেখানে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, পাসপোর্ট আসলে কোনো নাগরিকত্বের শংসাপত্র নয়, এটি কেবলমাত্র একটি ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা ভ্রমণের নথি মাত্র। বিদেশে ভ্রমণের সময়ে একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয় বহন করাই এই পাসপোর্টের মূল কাজ। সরকারি স্তরে কড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বহু যাচাই-বাছাইয়ের পর এই পাসপোর্ট দেওয়া হলেও, একে চূড়ান্ত নাগরিকত্বের দলিল বলা যাবে না। এর আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, আধার কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ডও ভারতের পূর্ণ নাগরিকত্বের একক বা চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মধ্যবিত্ত নাগরিকদের প্রশ্ন, যদি পাসপোর্টও নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, তবে একজন মানুষের প্রকৃত ভারতীয় হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ ঠিক কী? সম্প্রতি চিপ-নির্ভর নতুন আধুনিক ই-পাসপোর্ট (E-passport) ব্যবস্থা চালুর সময়েই এই যুক্তি সামনে এনেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় পাসপোর্ট মূলত সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি, যা বিশেষ প্রয়োজনে সরকার যেকোনো মুহূর্তে ফেরত নিয়ে নিতে পারে। এই নতুন ব্যাখ্যার কারণে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সংশয় ও ধোঁয়াশা দানা বাঁধছে।

একলাফে অনেকটাই বাড়ল পাসপোর্ট তৈরির খরচ

নাগরিকত্ব নিয়ে এই বিতর্কের ঠিক পরদিনই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাসপোর্ট ফি বা পাসপোর্ট তৈরির খরচ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ২০১২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই প্রথম সংশোধিত পাসপোর্ট বিধির আওতায় এই আবেদন ফি বাড়ানো হলো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিকদের সাধারণ ৩৬ পাতার পাসপোর্টের জন্য এখন ১৫০০ টাকার বদলে ২৫০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের পকেট থেকে একধাক্কায় অতিরিক্ত ১০০০ টাকা বেশি খসবে। আবার যারা ৬০ পাতার বড় পাসপোর্ট বানাতে চান, তাদের খরচ ২০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৩৫০০ টাকা করা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যারা তৎকাল (Tatkal Passport) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করেন, তাদের পকেটও এবার বেশ ভালোই কাটবে। তৎকাল পাসপোর্টের জন্য আগে যেখানে ৪০০০ টাকা লাগত, আগামী মাস থেকে সেখানে লাগবে ৫০০০ টাকা। কোনো কারণে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে তা নতুন করে পাওয়ার খরচও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ ৩৬ পাতার ডুপ্লিকেট পাসপোর্টের জন্য ৫০০০ টাকা এবং তৎকালের জন্য ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে। এমনকি নাবালকদের অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রেও নতুন আবেদনের ফি বাড়িয়ে ১৭৫০ টাকা করা হয়েছে।

Indian Passport Application Fees (ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির খরচ)

জনমানসে ক্ষোভ ও ভবিষ্যতের গভীর ধোঁয়াশা

পাসপোর্টের আইনি গুরুত্ব হ্রাস ও একই সঙ্গে আকাশছোঁয়া খরচ বৃদ্ধি নিয়ে আমজনতার মনে ক্ষোভ জমছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে নথির জন্য এত টাকা ফি এবং কড়া পুলিশি তদন্ত করা হয়, তার যদি নাগরিকত্বের কোনো মূল্যই না থাকে তবে এই বাড়তি টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা বা কাজের সূত্রে যারা নিয়মিত বাইরে যান, তাদের জন্য এই নিয়ম ও বর্ধিত ফি এক বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াল। ১ জুলাই থেকে এই সমস্ত নতুন নিয়ম দেশজুড়ে কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষকে নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে ঠিক কোন কাগজ সঙ্গে রাখতে হবে, সেই রহস্য কিন্তু এখনো কাটেনি।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!