LPG Crisis : আধার দেখালেই রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার নির্দেশ। মোদী সরকারের নয়া নির্দেশ

ইরান-ইজরায়েল পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সংকট (LPG Crisis) দিনে দিনে আরও প্রকট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য লাগু হয়েছে ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’। কেন্দ্রের আশ্বাসবার্তা সত্ত্বেও এলপিজি-উদ্বেগ কমছে না আমজনতার। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরহে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

New initiative to stop LPG Crisis

এই ছোট ৫ কেজির সিলিন্ডার (FTL cylinder) মূলত ব্যবহৃত হয় ছোট দোকান থেকে গৃহস্থলীর আপৎকালীন কাজে। তবে যুদ্ধ আবহে গ্যাস সংকট তৈরি হওয়ায়, এই ছোট সিলিন্ডারের চাহিদাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৩ মার্চ থেকে দেশে প্রায় রেকর্ড ৬.৬ লক্ষ ‘ছোটু সিলিন্ডার’ (Chotu Gas Cylinder) বিক্রি হয়েছে। কেন্দ্রের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এই ছোট সিলিন্ডার কেনার জন্য এবার ঠিকানার কোনও প্রমাণপত্র দেখানোর প্রয়োজন নেই। তাহলে? শুধু দরকার একটি বৈধ পরিচয়পত্র।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত প্রবাসী শ্রমিক এবং যাদের শহরে স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাদের সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছে। এখন গ্রাহকদের অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে শুধুমাত্র একটি ফটো আইডি দেখালেই মিলবে ‘ছোটু সিলিন্ডার’। মন্ত্রক জানিয়েছে, এলপিজির বাড়তি চাহিদা মেটাতেই সরকার এই সিলিন্ডারগুলির সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে।

কোন কোন নথি দেখাতে হবে?

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, LPG Crisis এর সময়ে এই ছোটু সিলিন্ডার (Chotu Gas Cylinder) পেতে হলে, গ্রাহকরা আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার আইডি দেখিয়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার নিতে পারবেন। বছরে যতবার ইচ্ছা, ততবার এটি রিফিল করানো যাবে।

কারা এই সুবিধা নিতে পারবেন?

অন্য শহরে থাকা ছাত্রছাত্রী, প্রবাসী শ্রমিকরা মূলত এই সুবিধা নিতে পারবেন। তবে স্থায়ী বাসিন্দারা, ছোট ব্যবসায়ীরাও চাইলে এই ছোট সিলিন্ডার ব্যাকআপ হিসেবে রাখতেই পারেন।

আরও পড়ুন, প্রচুর রেশন কার্ড বাতিল। আপনার নিস্ক্রিয় রেশন কার্ড কিভাবে চালু করবেন, জেনে নিন

‘ছোটু’র মূল্য কত?

বর্তমানে আকাশ ছোঁয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম (LPG Cylinder Price) ! ‘ছোটু’র আকার অনুযায়ী তার দাম কিন্তু যথেষ্টই বেশি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে সিলিন্ডার, গ্যাস এবং রেগুলেটরের দাম অন্তর্ভুক্ত। রিফিল করতে গেলে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সাধারণত এই সিলিন্ডার প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চলে। সুতরাং, প্রথমবার ‘ছোটু’ কিনতে হলে নিম্ন মধ্যবিত্তদের পকেটে খানিক টান পড়বে। তবে পরবর্তীতে রিফিল করাতে হলে, খুব একটা মাথাব্যথা হবে না বললেই চলে।

উল্লেখ্য, এই ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডারগুলিকে ‘ছোটু’ বা ‘এফটিএল সিলিন্ডার (FTL cylinder) বলা হয়। গ্যাস সংকট সৃষ্টির আগে রেঁস্তোরা থেকে গৃহস্থ, হাসপাতাল – কোনো ক্ষেত্রেই এর বিশেষ চাহিদা ছিল না। তবে বর্তমানে এর চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। এই ছোটু সিলিন্ডারের আরেকটি বিশেষত্ব হল, এগুলি পেতে আগে থেকে কোনও বুকিংয়ের প্রয়োজন নেই। এগুলি বাজারদরে যে কোনও ডিলারদের কাছেই পাওয়া যায় অতি সহজে। এবার এই ছোটু সিলিন্ডারের জোগান বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বলে রাখা প্রয়োজন, এখনও দেশে এলপিজি সংকট মাথাচাড়া দেয়নি, এমনই স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্র। তাই জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত করতে দেশের সব শোধনাগারে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!