সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA মামলার রায় (Dearness Allowance) দিয়েছে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India). সেখানে সমস্ত বকেয়ার ২৫% মহার্ঘ ভাতা অতি শীঘ্রই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তবে এর উত্তরে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে MA দাখিল করেছে। সেই আবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত এই বকেয়া দেওয়া সম্ভব নয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। আর তার সাথে সুকৌশলে নাকি শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত দপ্তর ও একাধিক স্বশাসিত দপ্তর কে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনটাই দাবি করছেন মামলাকারীরা। যার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
West Bengal Dearness Allowance Case Update
বকেয়া ডিএ মামলার বিপুল সংখ্যক আর্থিক বোঝা রাজ্য সরকারের এই মুহূর্তে নেওয়া সম্ভব নয়। এই মর্মে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার। আর তার সাথে আবেদনে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এবার সরকারি কর্মী সংগঠনের একাংশের আশংকা, তবে কি রাজ্য সরকার সুকৌশলে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদের কথা বলে, শিক্ষক, পঞ্চায়েত কর্মী সহ অন্য স্বশাসিত কর্মীদের এড়িয়ে গেছে? এই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মামলাকারী সংগঠন।
শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের তুলনায় শিক্ষকদের সংখ্যা বেশি, আর তারাই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন! আর স্বভাবতই এই খবরে বেজায় চটেছেন, শিক্ষকদের একাংশ। যার জেরে মামলাকারী সংগঠনের কর্মীদেরকে ও বিভিন্ন ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে, কনফেডারেশনের কর্তা মলয়বাবু বলেন, ‘রাজ্য সরকার যে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, সেটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যই করেছে বলে মনে হচ্ছে। ROPA এর নিয়ম মেনে যারা DA পান, তারা সবাই এর সুবিধা পাবেন।
বকেয়া ডিএ এর পরিমাণ
সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবি মতো, ‘ROPA 2009 এর মোট বকেয়া DA এর পরিমাণ (Dearness Allowance) প্রায় ৪২,০০০ কোটি টাকা। যার ২৫ শতাংশ হিসাবে হয়, ১০,০০০ কোটি টাকা মতো। সেই হিসাব অনুযায়ী সাধারণ সরকারি কর্মচারী সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, ভোট কর্মী সকলেই ই টাকা পাওয়ার অংশীদার। তবে রাজ্য সরকার এবার কি ভাবছে, সেটাই দেখার।
শেষ কথা
গত ৩ বছর আগেও রাজ্য সরকার সময় প্রার্থনা করেছিলো। এবার ও সেই সময় ই চেয়েছে। তারপর আদৌ কি হবে, সেটা কেউ জানে না। তাই বিচারাধীন বিষয় বলে সংবাদমাধ্যমে এড়িয়ে গেলেও, আদৌ এই টাকা মিলবে কিনা, সেই নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খোদ সরকারি কর্মী থেকে শিক্ষক শিক্ষিকা ও অন্যান্য কর্মী।
আর এই সুযোগে নতুন সরকার গঠনের ৪০ দিনের মধ্যে ৭ম বেতন কমিশন চালুর ধামাকা অফার দিয়েছে, বিজেপি। এবার এটাই দেখার সরকারি কর্মীদের বেতনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়।