ওয়েসিস স্কলারশিপ ২০২৬: বছরে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর প্রতি বছরের মতো এবারও রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ওয়েসিস স্কলারশিপ ২০২৬ (OASIS Scholarship 2026) চালু করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে থমকে না যায়। বিশেষ করে তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদস্বরূপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বার্ষিক একটি মোটা অংকের টাকা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে আকাশছোঁয়া পড়াশোনার খরচের চাপে এই অনুদান ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
OASIS Scholarship 2026: ওয়েসিস স্কলারশিপ কী এবং এর প্রয়োজনীয়তা
ওয়েসিস বা ‘অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফর স্কলারশিপ ইন স্টাডিজ’ হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিশেষ শিক্ষা সহায়তা পোর্টাল। এর মাধ্যমে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় দেখা যায় ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও স্রেফ অর্থের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। এই সমস্যা দূর করতেই রাজ্য সরকার সরাসরি পড়ুয়াদের হাতে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে ড্রপআউট বা স্কুলছুট হওয়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ রাখা হয়েছে।
ওয়েসিস স্কলারশিপে কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই স্কলারশিপে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির শংসাপত্র থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীর পারিবারিক বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না, যা আয়ের শংসাপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই কোনো সরকার স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠরত হতে হবে। যারা ডিসটেন্স বা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন, তারা সাধারণত এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারেন না। এছাড়া পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর থাকা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয়।
ওয়েসিস স্কলারশিপের টাকার পরিমাণ
২০২৬ সালের এই প্রকল্পের অধীনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্তর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন অংকের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। স্কুল স্তরের মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য বার্ষিক প্রায় ১২,০০০ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে। যারা স্নাতক বা ইউজি (UG) স্তরে পড়াশোনা করছেন, তারা বার্ষিক সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান স্নাতকোত্তর বা পিজি (PG) এবং উচ্চতর গবেষণারত ছাত্রছাত্রীরা, যাদের জন্য ৪৮,০০০ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। এই টাকার পরিমাণ কোর্সের ধরন, হোস্টেল সুবিধা এবং সরকারি নিয়মের পরিবর্তনের ওপর কিছুটা নির্ভর করতে পারে। সঠিক সময়ে আবেদন করলে এবং তথ্য নির্ভুল থাকলে এই টাকা সরাসরি ডিবিটি (DBT) মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে আসে।
ওয়েসিস স্কলারশিপে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি কাজ। প্রথমেই লাগবে শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি এবং নিজের চালু থাকা একটি মোবাইল নম্বর। এর পাশাপাশি জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট এবং পরিবারের আয়ের বৈধ ইনকাম সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে শেষ পরীক্ষার মার্কশিট এবং বর্তমান ক্লাসে ভর্তির রসিদ বা ফি বুক প্রয়োজন হবে। ব্যাঙ্কের তথ্য দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং পাসবুকের প্রথম পাতার পরিষ্কার ছবি স্ক্যান করে রাখতে হবে। আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা থাকলে টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত ও সহজতর হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন, মাধ্যমিক পাশ করলেই প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা পাবেন। আবেদন করুন।
ওয়েসিস স্কলারশিপে অনলাইনে আবেদনের সহজ পদ্ধতি
ওয়েসিস স্কলারশিপে আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, যা ছাত্রছাত্রীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। প্রথমে প্রার্থীকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ গিয়ে ‘স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে মূল আবেদনপত্রটি খুব সাবধানে পূরণ করতে হবে। এখানে নাম, ঠিকানা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্যে যেন কোনো ভুল না থাকে সেদিকে কড়া নজর দেওয়া প্রয়োজন। সব তথ্য দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আপলোড করে ফর্মটি ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। শেষে আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে তাতে সই করে নিজের স্কুল বা কলেজে জমা দিতে হবে।
গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় তথ্য
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি আর্থিক সাহায্য নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি পথ। এই স্কলারশিপের টাকা দিয়ে অনেক পড়ুয়া তাদের বই কেনা, পরীক্ষার ফি দেওয়া কিংবা হোস্টেলের খরচ অনায়াসে মিটিয়ে নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই সামান্য সহায়তাই একটি ছাত্রের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছে। তাই আপনি যদি এই ক্যাটাগরির যোগ্য প্রার্থী হন, তবে দেরি না করে দ্রুত আবেদন সেরে ফেলুন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া আপনার সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার প্রথম ধাপ হতে পারে। সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করলে আপনিও পেতে পারেন পড়াশোনার জন্য এই বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা।
