বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যুব সাথী প্রকল্প সাড়া ফেলে দিয়েছে। যারা বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করেছেন তারা Yuva Sathi Status Check বা বাংলার যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করে দেখে নিতে পারেন, আপনাদের আবেদন গৃহীত হয়েছে কিনা। বা টাকা পাবেন কিনা। যারা আবেদনে ভুল করেছেন, তারাও অনেকেই চিন্তায় আছেন, তারাও চাইলে আপনার আবেদনের স্থিতি এখানে দেখে নিতে পারবেন।
Banglar Yuva Sathi Status Check
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ (Social Security Scheme) হিসেবে বাংলার যুব সাথী প্রকল্পটি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬-২৭ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকাকালীন সামান্য হাতখরচ ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা। শিক্ষিত বেকারদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকার প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং তাদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে উদগ্রীব হয়ে আছেন।
বাংলার যুব সাথী প্রকল্পের গুরুত্ব ও লক্ষ্য
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা যাতে চাকরির প্রস্তুতির সময় বা ছোটখাটো কাজের সন্ধানে থাকাকালীন আর্থিক সংকটে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই যুব সাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে, যার ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। মূলত ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবেন, যারা ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস করেছেন। বেকারত্বের বোঝা কিছুটা লাঘব করতে সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর মাধ্যমে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলার যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার সহজ পদ্ধতি
আপনার যুব সাথী আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানার (Yuva Sathi Status Check) জন্য অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করা সবথেকে সহজ মাধ্যম। প্রথমে আপনাকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট apas.wb.gov.in অথবা banglaryuvasathi এ প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘Check Application Status’ বা ‘Track Status’ নামক বিকল্পটি খুঁজে বের করে তাতে ক্লিক করুন। এরপর আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং আবেদনের সময় প্রাপ্ত রেফারেন্স আইডি (Reference ID) সেখানে সঠিকভাবে ইনপুট করতে হবে। ক্যাপচা কোড পূরণ করে সাবমিট করলেই স্ক্রিনে আপনার আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস ফুটে উঠবে। এর ফলে আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে কি না তা খুব সহজেই ঘরে বসে যাচাই করা সম্ভব।
বাংলার যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনের যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথি
যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রার্থীর বয়সসীমা ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তত মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। আবেদন করার সময় প্রার্থীর আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা মার্কশিট এবং রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি থাকা দরকার। এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের জন্য পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি বা একটি বাতিল চেক জমা দিতে হয়। মনে রাখবেন, আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যেন অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে (Aadhaar Seeded)।
বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে অনলাইনে আবেদনের ধাপ ও সময়সীমা
সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অনলাইন পোর্টালের পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমেও অফলাইনে আবেদন জমা নেওয়ার কাজ চলছে। পোর্টালে গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে সব তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করার পর সাবমিট করলে একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যায়। এই আইডিটি ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেক করার জন্য এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য জানতে আপনার কাজে লাগবে। ২০২৬ সালের ১লা এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো শুরু হবে। অনলাইনে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (Banglar Yuva Sathi FAQ)
আবেদন করার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না তাদের ফর্মটি কেন পেন্ডিং (Pending) হয়ে আছে বা রিজেক্ট (Reject) হয়েছে কি না। যদি স্ট্যাটাস চেক করার সময় ‘Verified’ বা ‘Approved’ লেখা থাকে, তবে বুঝবেন আপনি প্রকল্পের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ‘Rejected’ দেখালে বুঝতে হবে আপনার তথ্যে কোনো ত্রুটি রয়েছে অথবা আপনি যোগ্যতা পূরণ করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্লক অফিস বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করলে আপনি পেমেন্ট সংক্রান্ত লেটেস্ট আপডেট সম্পর্কে সবসময় অবগত থাকতে পারবেন।
আরও পড়ুন, কৃষক বন্ধু ও ভাগ-চাষিদের বিরাট সুখবর।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলার যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক ২০২৬ (Banglar Yuva Sathi Status Check) সম্পর্কিত এই প্রতিবেদনটি আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করলে এবং নিয়মিত স্থিতি যাচাই করলে আপনার প্রাপ্য টাকা পেতে কোনো অসুবিধে হবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ বাংলার বেকার যুবসমাজের কাছে এক বড় পাওনা হতে চলেছে। সঠিক সময়ে আবেদনের স্থিতি জেনে নিয়ে নিশ্চিন্তে আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যান।
