ATM Machine: খুচরোর অভাব মেটাতে বাজারে আসছে নতুন এটিএম মেশিন। বিনামূল্যে কি কি সুবিধা পাবেন দেখুন

ডিজিটাল যুগেও খুচরো সমস্যা মেটাতে বাজারে আসছে নতুন প্রজন্মের স্মার্ট এটিএম মেশিন

বর্তমান সময়ে Phonepe Google Pay এর রমরমার মধ্যেও খুচরো টাকার সমস্যা রয়েছে। যার জেরে স্মার্ট প্রযুক্তির ATM Machine চালু করার কথা ভাবছে, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। বিগত ১০ বছরে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বহুগুন বাড়লেও নগদ টাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেন, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, স্মার্ট এটিএম থাকলেও ছোটখাটো কেনাকাটার ক্ষেত্রে খুচরো টাকার সমস্যা আজও আমাদের নিত্যসঙ্গী। সাধারণ মানুষ অনেক সময় এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েন কারণ সেখান থেকে শুধুমাত্র বড় নোট পাওয়া যায়।

New Generation ATM Machine

গ্রাহকদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার এবার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে উন্নত প্রযুক্তির নতুন প্রজন্মের ক্যাশ ডিস্পেন্সিং মেশিন। এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ এবং সাবলীল করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মেসিনে ১০০ টাকা, ২০০ টাকা ও ৫০০ টাকার পাশাপাশি ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০টাকা প্রভৃতি নোট থাকবে।

নতুন এটিএম মেশিনের বিশেষত্ব ও সুবিধা

এতদিন পর্যন্ত ব্যাঙ্কের এটিএমগুলোতে সাধারণত একশো, দুইশো বা পাঁচশো টাকার নোটই পাওয়া যেত। ফলে অল্প টাকার প্রয়োজনেও আমাদের বড় নোট তুলতে বাধ্য হতে হতো বাজারে খুচরোর অভাবের কারণে। তবে নতুন এই মেশিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি থেকে ছোট মূল্যের নোটও সংগ্রহ করা যাবে। গ্রাহকরা এখন থেকে চাইলে দশ, কুড়ি বা পঞ্চাশ টাকার ব্যাঙ্কনোট সরাসরি এটিএম থেকে তুলতে পারবেন। এর ফলে খুচরো টাকার জন্য সাধারণ মানুষকে আর এদিক-ওদিক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। ব্যবহারকারীদের জন্য এটিএম স্ক্রিনে নির্দিষ্ট অপশন থাকবে যেখান থেকে তারা নিজেদের প্রয়োজনমতো নোট বেছে নিতে পারবেন।

খুচরো সমস্যা সমাধানে সরকারের লক্ষ্য

বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ছোট নোটের সরবরাহ বজায় রাখাই কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা, সকলেই এখন খুচরো টাকার অভাবে কেনাকাটায় সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেক সময় খুচরো না থাকায় বাড়তি খরচ করতে হয় অথবা প্রয়োজনীয় পণ্যটি কেনা সম্ভব হয় না। সরকার মনে করছে, নতুন এই এটিএম মেশিনগুলো চালু হলে বাজারে দশ বা কুড়ি টাকার নোটের অভাব কমবে। মানুষের হাতের নাগালে ছোট নোট পৌঁছে গেলে দেশের খুচরো বাজারে কেনাবেচার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নতুন প্রজন্মের এই মেশিনগুলো শুধুমাত্র যে ছোট নোট দেবে তা নয়, এর সুরক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। উন্নত সেন্সর এবং জালিয়াতি রোধকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মেশিনগুলোকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ক্লোনিং বা ডাটা চুরির মতো অপরাধ রুখতে এতে থাকবে সর্বাধুনিক এনক্রিপশন সিস্টেম যা গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত রাখবে। মেশিনের অভ্যন্তরে নোট রাখার আধুনিক ড্রয়ার থাকবে যা বিভিন্ন মাপের টাকা সহজে সরবরাহ করতে সক্ষম। প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো এই মুহূর্তে মেশিনের কার্যকারিতা এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস না করেই দ্রুত এটি সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন, ৯০ দিন ফ্রি দিচ্ছে, রিলায়েন্স জিও। আজই এক্টিভেট করুন

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও এটিএম ব্যবস্থার বিবর্তন

একটা সময় ছিল যখন দেশের অধিকাংশ এটিএম মেশিনে শুধুমাত্র পাঁচশো বা হাজার টাকার নোট থাকত। নোটবন্দির পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে একশো এবং দুইশো টাকার নোট এটিএম-এ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে তা সত্ত্বেও ছোট ছোট দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য সাধারণ মানুষ খুচরোর অভাবে রীতিমতো হিমশিম খেত। কেন্দ্র সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত মূলত সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া। আধুনিক জীবনযাত্রায় ক্রেডিট কার্ড বা ইউপিআই থাকলেও পকেটে কিছু খুচরো টাকা রাখা সবসময়ই স্বস্তিদায়ক। সেই স্বস্তি ফেরাতেই এবার প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে এটিএম ব্যবস্থায় বড় ধরনের আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন, বাড়ি বসে প্রতিমাসে ১০০০০ টাকা করে দিচ্ছে। আবেদন করুন

কবে থেকে চালু হবে এই নতুন পরিষেবা?

প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হলেও নতুন এই এটিএম মেশিনগুলো কবে থেকে পুরোপুরি চালু হবে তার দিনক্ষণ জানানো হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, মেশিনের নকশা এবং নোট বিতরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একবার ছাড়পত্র মিললেই দেশের বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জেও এই মেশিন বসানোর কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাঙ্কের কাউন্টারে না গিয়েই এটিএম থেকে ছোট নোট পাবেন। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সাহসী সিদ্ধান্ত। খুচরো সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দেশবাসী এখন এই নতুন এটিএম-এর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!