WBHS: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসাথীর বদলে হেলথ স্কিম। চিকিৎসার খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি! সর্বশেষ খবর জেনে নিন

ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় (WBHS) পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা আসবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর এখন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Departhement) হাতে। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) সম্প্রতি একটি মামলায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দপ্তরকে দিয়েছে। শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি এখন চার মাসের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এই নির্দেশ শিক্ষক সমাজে নতুন আশা জাগিয়েছে। সরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিকারে সমতা আনার লক্ষ্য এতে প্রতিফলিত। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের উদ্যোগে এই মামলা দায়ের হয়েছে, যা এখন শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

WBHS : West Bengal Health Scheme for School Teachers

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকেরা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা (Swasthyasathi Card) পেয়ে থাকেন। এজন্য তাদের প্রতিমাসে ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা কেটে নেওয়া হয়। অথচ এই স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই দেওয়া হয়। তাই শিক্ষকদের ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে (WBHS) অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ হাইকোর্টে মামলা করে।

তাদের মূল অভিযোগ ছিল স্বাস্থ্য সুবিধায় সরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য। এই বৈষম্য মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বলে তারা দাবি করেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা যে সুবিধা পান, তা সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদেরও দেওয়া উচিত। এই মামলায় বিভিন্ন তথ্য এবং হিসাব পেশ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এখন এই দাবিকে নতুন দিশা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিকারে বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুক্তি

শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুবিধায় বৈষম্য অসাংবিধানিক বলে আদালতে যুক্তি পেশ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের সুবিধা পেলেও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা বঞ্চিত। এই দ্বৈত নীতি শিক্ষা ব্যবস্থার সমতা নষ্ট করে। মামলাকারীরা বলেন, স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়ে কোনো ভেদাভেদ চলতে পারে না। তারা বিভিন্ন হিসাব এবং তথ্য দিয়ে তাদের দাবি সমর্থন করেন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এখন এই যুক্তিগুলোকে খতিয়ে দেখার সুযোগ দেবে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত

কলকাতা হাইকোর্ট মামলার মেরিট নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তারা সরাসরি রায় না দিয়ে বিষয়টি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উপর ছেড়ে দিয়েছে। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং কমিশনারকে এই বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আদালতের ৬ নম্বর পয়েন্টে এই নির্দেশ স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়া যাবে কি না, তা স্থির করতে হবে। যদি না দেওয়া হয়, তাহলে কারণ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।

আরও পড়ুন, হটাত টাকার দরকার হলেই টাকা দিচ্ছে এইসমস্ত ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংকের রেট দেখে নিন

চার মাসের সময়সীমা এবং তার অর্থ

স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে চার মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত (West Bengal Health Scheme) নিতে হবে। এই সময়ে তারা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যুক্তি সহকারে স্থির করবেন। যদি সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তার পক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। না হলে, অস্বীকারের কারণ স্পষ্ট করতে হবে। এই নির্দেশ শিক্ষক সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যদি সিদ্ধান্ত বিরোধী হয়, তাহলে নতুন মামলার রাস্তা খোলা থাকবে।

শিক্ষকদের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

শিক্ষকরা এখন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের সুবিধা পেলে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মজবুত হবে। এই মামলা সরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের মধ্যে সমতা আনতে সাহায্য করতে পারে। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের প্রতিনিধি কিংকর বাবু এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের এই পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য দাবির জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং প্রত্যাশা

চার মাস পর স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এটি ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের (WBHS) প্রসারের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। শিক্ষকরা এখন এই অপেক্ষায় রয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ আইনি প্রক্রিয়াকে সরল করেছে। যদি সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হয়, তাহলে অনেক শিক্ষক উপকৃত হবেন। এটি রাজ্যের শিক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!