DA Case Update: ডিএ মামলার শুনানিতে ধপে টিকলো না রাজ্য সরকারের নতুন কৌশল। রাজ্য সরকারি কর্মীদের সুবিধা হলো

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার শুনানি (DA Case Update) পর পর চারদিন হলো। যেখানে একটি তারিখ পেতে মাসের পর মাস কেটে যায়, সেখানে খুবই গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি শোনা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই মামলা এইভাবে চলতে থাকলে খুব দ্রুতই রায় ঘোষণা হয়ে যাবে। কারণ আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। এই তিন দিন এবং আজ পর্যন্ত ডিএ মামলার শুনানিতে কি কি হলো সহজ ভাষায় জেনে নিন।

DA Case Update today

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার শুনানি আজ সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমার্ধে কনফেডারেশন ও ইউনিটি ফোরাম বক্তব্য পেস করেন। তবে এর আগে গতকাল আদালত রাজ্য সরকার কে বকেয়া ডিএ দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন “কিছু তো দিন”। এই কথাটি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কলকাতা হাইকোর্টে দয়ার দান না অধিকার, সেই রায় আগেই প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এরপর এই মতব্য কর্মীদের একাংশকে আশাহত করেছে।

আজকের ডিএ মামলার শুনানিতে কী ঘটল?

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত ডিএ মামলার শুনানি আজ সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নতুন যুক্তিগুলো আদালতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এবং আইনজীবী বিক্রম ব্যানার্জী শুনানির পর সাংবাদিকদের সামনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মামলাটি দীর্ঘায়িত করার কৌশল অবলম্বন করছে। এই শুনানি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং দুই পক্ষের সওয়াল-জবাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

রাজ্য সরকারের নতুন যুক্তি

দিল্লী ও চেন্নাইয়ে কর্মরত কর্মীদের বেতন বিতর্ক

রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল আজ আদালতে দুটি নতুন যুক্তি উপস্থাপন করেন। প্রথমত, তিনি দাবি করেন যে, চেন্নাইয়ের গেস্ট হাউসে কর্মরত কর্মচারীরা তামিলনাড়ু সরকারের হারে ডিএ পাচ্ছেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে। ভাস্কর ঘোষ জানান, তামিলনাড়ু সরকার সেই সময়ে AICPI-এর তুলনায় বেশি ডিএ প্রদান করছিল। তিনি এই দাবির সমর্থনে প্রমাণও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এই যুক্তি আদালতে নতুন করে উত্থাপিত হওয়ায় বিচারপতিরা এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ROPA নিয়ে বিতর্কিত ব্যাখ্যা

কপিল সিব্বলের দ্বিতীয় যুক্তি ছিল ROPA (Revision of Pay and Allowances) সংক্রান্ত। তিনি বলেন, ডিএ প্রদানের অধিকার সরাসরি ROPA-এর আওতায় পড়ে না। বরং, এটি দুটি স্মারকলিপি (Clarificatory Memorandum) এর উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। এই ব্যাখ্যা আগে কখনও ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টে উত্থাপিত হয়নি। আদালত এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চায়, কেন এতদিন পর এই নতুন যুক্তি আনা হলো। এই যুক্তি মামলার গতিপ্রকৃতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিক্রিয়া

ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ শুনানির পর (DA Case Update) কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, রাজ্য সরকারের নতুন যুক্তিতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। তিনি এই পদক্ষেপকে “সময় নষ্টের কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা দীর্ঘায়িত করে কর্মচারীদের মনোবল ভাঙতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে সরকার কর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে, তিনি কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আদালত সরকারের এই বিলম্বের কৌশল বুঝতে পারছে। ভাস্কর ঘোষ জোর দিয়ে বলেন, “এই লড়াইয়ে আমরাই জিতব।”

আরও পড়ুন, পোস্ট অফিসে টাকা রেখেছেন? সঞ্চয় স্কিমের গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা হাপিস! গ্রাহকের টাকার কি হবে?

বিক্রম ব্যানার্জীর বিশ্লেষণ

আইনজীবী বিক্রম ব্যানার্জী রাজ্য সরকারের যুক্তিকে “ডিলেটরি ট্যাকটিক” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, সরকারের নতুন যুক্তির জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছে যথাযথ প্রমাণ ও যুক্তি প্রস্তুত রয়েছে। ব্যানার্জী বলেন, এই যুক্তিগুলো শুনানিকে আরও দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে উত্থাপিত হয়েছে। তিনি আদালতে সঠিক সময়ে এই যুক্তির জবাব পেশ করবেন বলে জানান। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের এই কৌশল কোনও নতুন সমাধান আনছে না। বরং, এটি মামলার ন্যায্য সমাধানকে আরও বিলম্বিত করছে।

আরও পড়ুন, প্রতিমাসে মাত্র ৫০০ টাকা জমিয়ে লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ সুদ পাবেন এই স্কীমে।

পরবর্তী শুনানির তারিখ

আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার, দুপুর ২টো নির্ধারণ করেছে। এই দিনে কপিল সিব্বলের অসমাপ্ত সওয়াল শেষ হওয়ার পর কর্মচারী সংগঠনগুলির আইনজীবীরা তাঁদের জবাবি যুক্তি উপস্থাপন করবেন। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এই শুনানির দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন। এই মামলার ফলাফল তাঁদের আর্থিক অবস্থার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ আশাবাদী যে, আদালত ন্যায্য রায় দেবে। আগামী শুনানি এই মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিএ না দিলেও রাজ্য সরকারি কর্মী, শিক্ষক শিক্ষা কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি। কাদের কত টাকা বেতন বাড়ছে?

মামলার গুরুত্ব

এই ডিএ মামলার শুনানি ও মামলার রায় শুধু পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্যই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোর্টের রায় এই বিষয়ে একটি নজির স্থাপন করতে পারে। কর্মচারী সংগঠনগুলি দাবি করছে, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ তাঁদের ন্যায্য অধিকার। রাজ্য সরকারের আর্থিক অসুবিধার যুক্তি এই দাবির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, আদালতের পর্যবেক্ষণে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, ন্যায্য সমাধানের জন্য আরও বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। আগামী শুনানি এই দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!