পশ্চিমবঙ্গের ২৫% বকেয়া ডিএ নিয়ে সুখবর। সুপ্রিম কোর্টের তালিকা প্রকাশ। রাজ্য সরকারি কর্মীরা দেখুন

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে স্বস্তির খবর পাওয়া গেল। গরমের ছুটি ও রাজ্যের আবেদনের পর ইতিমধ্যেই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধারজ হয়েছে। আর কর্মীদের পক্ষের মামলাকারী আইনজীবীর মতে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই কর্মীদের পক্ষে রায় গিয়েছে, আর সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court of India) তার ব্যতিক্রম হবে না। আর শীর্ষ আদালত ও এবার কড়া অবস্থান নেবে। আর কর্মীদের প্রাপ্য মেটানোর নির্দেশিকা জারি হবে।

সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলার নতুন আপডেট

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance)) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৪ঠা আগস্ট, ২০২৫ তারিখে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। এই খবরটি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে প্রকাশিত তালিকা এই আশাকে আরও জোরদার করছে। এই প্রতিবেদনে আমরা এই মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং এর তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

ডিএ মামলায় বাড়তি গুরুত্ব

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ৪ঠা আগস্টের শুনানির জন্য একটি অগ্রিম তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় ৫০০টিরও বেশি মামলার মধ্যে ডিএ মামলাটি ৬৯ নম্বরে স্থান পেয়েছে। এই অবস্থান মামলাটির গুরুত্ব এবং শুনানির সম্ভাবনাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। তালিকার উচ্চস্থানে থাকায় (Top of the list) এটি শুনানির জন্য অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই তালিকা প্রকাশের ফলে কর্মচারীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই শুনানি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হবে।

কোন বেঞ্চে শুনানি হবে?

এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হবে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বিত বেঞ্চে। শুনানি সকাল ১১:০০ থেকে ১১:৩০-এর মধ্যে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তালিকার প্রথম দিকে মামলাটির অবস্থান এই সময়সীমার সম্ভাবনাকে আরও নিশ্চিত করছে। এই বেঞ্চের বিচারপতিরা গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে অভিজ্ঞ। তাই, কর্মচারীরা এই শুনানি থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন। এই শুনানি মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

DA মামলার বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে DA মামলার স্ট্যাটাসে সিরিয়াল নম্বর দৃশ্যমান নয়। মূল তালিকা বা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হলে এই তথ্য স্পষ্ট হবে। এই মামলায় মোট বকেয়ার অন্তত ২৫% বকেয়া ডিএ এর বিষয়টি প্রধানত জড়িত রয়েছে। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ এবং ইউনিটি ফোরাম এই মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী পরিষদ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এই মামলায় সংযুক্তি হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই সংগঠনগুলি কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তাদের প্রচেষ্টা এই মামলাকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন, দুর্দান্ত অফার! Jio গ্রাহকদের ৫০ দিন ফ্রি ইন্টারনেট দিচ্ছে। কিভাবে এই অফার পাবেন?

শুনানির সম্ভাবনা ও গুরুত্ব

সুপ্রিম কোর্টের ১৭টি কোর্টের মধ্যে এই মামলাটি ৬৯ নম্বরে তালিকাভুক্ত। এই অবস্থানের কারণে শুনানির সম্ভাবনা প্রায় ১০০% বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৬ই মে, ২০২৫-এ এই মামলার শুনানি হয়েছিল। সেই সময় মামলাটি ৪ঠা আগস্টের জন্য “টপ অফ দ্য বোর্ড” হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এই অগ্রাধিকার মামলার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কর্মচারীদের মধ্যে এই শুনানি নিয়ে উৎকণ্ঠা ও আশা দুই-ই রয়েছে।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা আশা করছেন, এই শুনানির মাধ্যমে তাদের ২৫% বকেয়া ডিএ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। এছাড়াও, রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানে বাধ্য করা হতে পারে। এটি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এই শুনানির ফলাফল রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে। সকলের নজর এখন ৪ঠা আগস্টের দিকে।

আরও পড়ুন, সরকারি কর্মীদের একাউন্টে বাড়তি টাকা ঢুকবে, দেখুন।

কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?

ডিএ মামলাটি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু বকেয়া ডিএ নয়, বরং তাদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে এই মামলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মচারী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের লড়াই এই মামলাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। শুনানির ফলাফল রাজ্যের শ্রমনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, এই মামলা শুধু কর্মচারীদের জন্য নয়, রাজ্যের প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মীরা মনে করেন, “এই মামলায় তাদের জয় নিশ্চিত একথা রাজ্য সরকার ও জানেন। বকেয়া ডিএ আজ হোক আর কাল, মেটাতেই হবে। এবার কাল বিলম্ব করে যতটা দেরি করা যায় আর কি।” এবার এটাই দেখার আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার শুনানি হয় কিনা, আর হলেও কি নির্দেশ আসে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!