সারা ভারতে শুরু হচ্ছে আদমশুমারি বা জনগণনা (Digital Census 2026). আর এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ মাঠকর্মীর। তাই জন গণনার কাজে কর্মী নিয়োগ (Census Recruitment) শুরু হলো। প্রায় ১৫ বছর পর ভারতে আবারও শুরু হতে চলেছে জাতীয় জনগণনা, এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহরের জন্য তৈরি হবে জিও-ট্যাগযুক্ত নির্ভুল মানচিত্র। এই মহৎ উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করছে, যেখানে উচ্চমাধ্যমিক পাশ চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা।
ভারতের জনগণনার পটভূমি
ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা (Census of India) অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২১ সালে এই কার্যক্রম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবার ২০২৫ সালে নতুন উদ্যমে জন গণনা শুরু হতে চলেছে। এই সময়ে দেশের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রচুর জনবল প্রয়োজন। তাই এই আবহে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই নিয়োগ হবে অস্থায়ী ভিত্তিতে।
ডিজিটাল জনগণনার বৈশিষ্ট্য
এই প্রথমবারের মতো ভারতে জন গণনা সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে (Digital Cenu of India) পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৬ লক্ষ ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা দেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর এবং গলির বাড়িগুলোর তথ্য জিও-ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করবে। এই কাজে ব্যবহৃত হবে অত্যাধুনিক Geospatial Technology. আর এর জন্য দরকার জেলায় জেলায় প্রচুর কর্মীর। এবার এই নিয়োগের বিস্তারিত জেনে নিন।
জনগণনায় কর্মী নিয়োগের বিবরণ
- কর্মীর সংখ্যা: জনগণনার জন্য বিপুল সংখ্যক পার্ট-টাইম কর্মী নিয়োগ করা হবে।
- বেতন: মাসিক ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা।
- প্রশিক্ষণ: কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও আপলোড করতে হবে।
- প্রযুক্তি: জিও-ট্যাগিং এবং Geospatial Technology ব্যবহার করে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
নিয়োগের যোগ্যতা
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জন গণনার জন্য নিয়োগে আবেদনের যোগ্যতা নিম্নরূপ:
📌 শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক (১০+২) পাশ।
📌 দক্ষতা: কম্পিউটার বা স্মার্টফোন চালানোর দক্ষতা থাকতে হবে।
📌 অগ্রাধিকার: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, সরকারি কর্মচারী, পঞ্চায়েত বা পৌরসভার কর্মী এবং শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন, ঘরে বসে প্রতিদিন ১৫০০ টাকা আয় করার দুর্দান্ত সুযোগ, আপনার জন্য।
জনগণনার সময়সূচী
📌 প্রথম ধাপ (হাউস লিস্টিং): ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে।
📌 মূল ধাপ: ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও জাত সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ।
📌 সমাপ্তি: ২০২৭ সালের মার্চে জন গণনা শেষ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে।
কেন এই জনগণনা গুরুত্বপূর্ণ?
এই জন গণনা শুধু জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নির্ভুল মানচিত্র তৈরি করবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই তথ্য আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা প্রস্তুত হন এবং এই সুযোগ কাজে লাগান! আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।