পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ রেশন কার্ড গ্রাহকদের (Ration Card Customers) জন্য জরুরী খবর। সাধারণ মানুষের জন্য রেশন কার্ড একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নথি। প্রত্যেক মাসে বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্যশস্য পাওয়ার জন্য ও বাজার দামের চাইতে কম দামে দ্রব্য সামগ্রী পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ এই কার্ডের উপর ভরসা করেন। তাছাড়া এই কার্ড একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট। তবে রেশন কার্ড থাকলে, তার নিয়মকানুন গুলিও মানতে হবে। অনেকেই খাদ্য দপ্তরের এই নিয়ম না মানায় ইতিমধ্যেই লাখ লাখ গ্রাহকের রেশন কার্ড নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। তাই কার্ড চালু রাখতে এই ভুল গুলো আর করবেন না।
6 Month unused Ration Card Will be deactivated
দরিদ্র জনসাধারণের স্বার্থে সরকার চালু করেছে রেশন প্রকল্প। ভারতের লাখ লাখ মানুষ এই রেশন ব্যবস্থার (Rationing System) গ্রাহক। তবে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকের কাছেই চালু কার্ড (Ration Card) আছে তবুও তাঁরা রেশন তোলেন না। অর্থাৎ তাঁরা তাদের কার্ডকে এমনিই ফেলে রাখেন। এইরকম পরিস্থিতিতে সরকার (Government of West Bengal) এবার থেকে নতুন নিয়ম জারি করেছে। এবার থেকে টানা ছমাস রেশন না তুললে সেই কার্ড সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।
৬ মাস রেশন না তুললে রেশন কার্ড বাতিল হবে
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দপ্তরের নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও রেশন গ্রাহক যদি তাঁর নামে বরাদ্দ খাদ্যশস্য টানা ছমাস না তোলেন তাহলে সেই কার্ড সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় তথা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও আগে এই সময়সীমা ছিল দুমাসের। কিন্তু বর্তমানে সময়সীমা বেড়েছে রাজ্য খাদ্য দপ্তর গত ১১ আগস্ট রেশন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সংশোধিত কন্ট্রোল অর্ডার জারি করেছে। আর সেখানেই এটি বলা হয়েছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়ার রেশন কার্ড চালু করবেন কিভাবে?
কোনও গ্রাহকের কার্ড বন্ধ হয়ে গেলেও সেই নিষ্ক্রিয় রেশন কার্ড (Ration Card) চালু করার উপায় রয়েছে। আপনার নিষ্ক্রিয় কার্ডটি তিনমাসের মধ্যে ফের চালু করার সুযোগ পাবেন। এমনটাই বলা হয়েছে ওই কন্ট্রোল অর্ডারে। খাদ্যদপ্তর সূত্রের খবর, আপনি যদি নিষ্ক্রিয় কার্ড চালু করতে চান তাহলে আপনাকে ফের ‘ই-কেওয়াইসি’ করতে হবে। এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় আধারের বায়োমেট্রিক নিয়ে।
রেশন ব্যবস্থায় আরও কড়া হলো সরকার
রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ও গোটা প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য সরকারকে নানান সময়ে পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে। তেমনি একটি পদক্ষেপ অব্যবহৃত কার্ডের নিষ্ক্রিয়করণ ও বাতিল সংক্রান্ত নিয়মটি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে খাদ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কন্ট্রোল অর্ডারে বলা হয়, কোন গ্রাহক যদি টানা দুমাস খাদ্য না নেন তবে তাঁর কার্ডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।
আর যদি ছয় মাসের মধ্যে কার্ড পুনরায় চালু করা না হয়, তবে সেই কার্ড সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যাবে। তবে এবার সংশোধিত কন্ট্রোল অর্ডারে এই সংক্রান্ত ধারাগুলির পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও ছ’মাস রেশন না তুললে নিষ্ক্রিয় কার্ড পুরোপুরি বাতিলের আগের নিয়মটিই বহাল থাকছে।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রকল্পে ৫০০০ টাকা করে দিচ্ছে। আবেদন করলেই টাকা পাবেন।
গ্রাহকদের কী সুবিধা হচ্ছে?
নতুন নিয়ম অনুসারে কার্ড নিষ্ক্রিয়করণের সময় সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি ছ’মাস করায় তাতে গ্রাহকদের সুবিধাই হবে। তবে অনেকে বলছেন, কার্ড নিষ্ক্রিয় করার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ফোন কিংবা চিঠি মারফত একবার জানানো হোক। কারণ অনেক সময়েই দেখা যায়, গ্রাহক রেশন দোকানে গিয়েই তাঁর কার্ড নিষ্ক্রিয় হওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন। তাতে ডিলারের সঙ্গে গ্রাহকের ঝামেলা বেঁধে যায়। গ্রাহকের আগের থেকে এই বিষয়ে জানা থাকলে বিভ্রান্তি কিংবা সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের SC ST OBC তপসিলিদের নগদ টাকা দিচ্ছে। এইভাবে আবেদন করুন।
সারসংক্ষেপ
কোনও গ্রাহকের চালু কার্ড থাকলে প্রতিও মাসে অবশ্যই রেশন তোলা উচিৎ, অথবা কার্ড এন্ট্রি করা উচিৎ। এবং ৬ মাস অন্তর অন্তর KYC করিয়ে নেওয়া উচিৎ। তাই আপনার কাছেও যদি Ration কার্ড থাকে আর আপনিও যদি বেশ কয়েক মাস রেশন না তুলে থাকেন তাহলে এই মাসের শুরুতেই আপনার কার্ডটি এন্ট্রি করিয়ে নিন। নয়তো আপনার রেশন কার্ডটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সরকারের নিয়ম মানুন, সরকারি সুবিধা গ্রহণ করুন।