West Bengal Rupashree Prakalpa Online 3.0
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য একটি জনমুখী প্রকল্প। আর মেয়েদের জন্য রূপশ্রী প্রকল্প (Rupashree Prakalpa) আরেকটি আশীর্বাদ স্বরূপ সরকারি প্রকল্প। বিবাহযোগ্য মেয়েদের সাহায্যার্থে এই প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে অনেকেই এই প্রকল্প সম্মন্ধে জানেন না। তাই এই প্রতিবেদনের মধ্যে জেনে নিন, রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা, এই প্রকল্পে টাকার পরিমাণ, এই প্রকল্পে কারা টাকা পাবেন ও কিভাবে আবেদন করবেন।
Rupashree Prakalpa 3.0 – রূপশ্রী প্রকল্প
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি জনপ্রিয় উদ্যোগ হল রূপশ্রী প্রকল্প (West Bengal Rupashree Prakalpa). এই প্রকল্পটি আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের বিবাহের সময় সাহায্য করে। অনেক পরিবার বিয়ের খরচে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই স্কিমের মাধ্যমে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এটি লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো মাসিক ভাতা নয়। বরং শুধুমাত্র বিবাহ সহায়তার জন্যই এই টাকা দেওয়া হয়।
রূপশ্রী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী?
রূপশ্রী প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হল দরিদ্র পরিবারকে বিবাহের বোঝা কমানো। অনেক সময় যৌতুক বা খরচের জন্য পরিবার চাপে পড়ে। এই অনুদান সেই সমস্যা দূর করে। এছাড়া বাল্যবিবাহ রোধ করতেও এটি সাহায্য করে। মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রণোদনা দেয়। সরকার এর মাধ্যমে সমাজের দুর্বল অংশকে সহায়তা করে।
রূপশ্রী প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন?
Rupashree Prakalpa এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েকটি শর্তে। প্রথমত, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আবেদনের সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫ লাখ টাকার নীচে হওয়া দরকার। আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অথবা গত পাঁচ বছর ধরে এখানে থাকতে হবে।
এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
- পাত্রের বয়স অন্তত ২১ বছর হতে হবে।
- এটি মেয়ের প্রথম বিবাহ হওয়া জরুরি।
- মেয়ের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
- টাকা সরাসরি সেখানে জমা পড়ে।
- বাবা-মায়ের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াও যথেষ্ট।
রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
আবেদনের সময় কয়েকটি নথি জমা দিতে হয়। প্রথমে অবিবাহিত থাকার প্রমাণপত্র দরকার। মেয়ে ও পাত্রের বয়সের প্রমাণ হিসেবে আধার বা জন্ম শংসাপত্র। বিবাহের প্রমাণ হিসেবে নিমন্ত্রণপত্র বা অন্য কিছু। পরিবারের আয় ও ঠিকানার স্ব-ঘোষণাপত্র। দুজনের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে।
অতিরিক্ত নথির তালিকা
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণী জমা করতে হয়
- ভোটার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্রও চলতে পারে।
- সবকিছু স্বপ্রত্যয়িত কপি হিসেবে দিতে হয়।
- এগুলো ছাড়া আবেদন গ্রহণ হয় না।
- সঠিক কাগজপত্র থাকলে প্রক্রিয়া সহজ হয়।
- অনেকে এতে ভুল করে সময় নষ্ট করে।
রূপশ্রী প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়া খুব সরল রাখা হয়েছে। ফর্ম পাওয়া যায় ব্লক অফিস বা পুরসভা থেকে। অনলাইনে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়। বিবাহের ৩০ থেকে ৬০ দিন আগে জমা দিতে হয়। নথি সহ ফর্ম স্থানীয় অফিসে জমা করুন। অনুমোদন হলে টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসে।
আবেদনের সময়সীমা ও টিপস
বিয়ের অন্তত এক মাস আগে আবেদন করাই ভালো। দেরি হলে টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করুন। অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা আছে। সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম ভরুন। এতে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন, আবারও বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস দিচ্ছে। উজ্জ্বলা যোজনায় আবেদন কিভাবে করবেন? কত দিন পর গ্যাস পাবেন?
উপসংহার
রূপশ্রী প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে চালু আছে। এখনও লক্ষ লক্ষ পরিবার উপকৃত হচ্ছে। এই সহায়তা অনেক মেয়ের জীবন সহজ করেছে। দরিদ্র পরিবারের বোঝা কমিয়েছে অনেকটা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। যোগ্য হলে অবশ্যই আবেদন করুন।
