পশ্চিমবঙ্গের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি লিস্ট
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার লিস্ট সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy list in SIR) বা যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে প্রায় ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম চিহ্নিত হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই সংখ্যাটা ৯৪ লক্ষের কাছাকাছি বলা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশন এই তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা খুব শীঘ্রই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা এখন এই লিস্ট ডাউনলোড করে পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিসে প্রদর্শন করবেন। এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ নিজের নাম চেক করতে পারবেন সহজেই।
West Bengal SIR Logical Discrepancy list in SIR
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত নির্বাচন কমিশনকে বলেছে যে পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাদের নামে যৌক্তিক অসঙ্গতি (Logical Discrepancy list in SIR) ধরা পড়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ্যে রাখতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, তালুকের ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে এই লিস্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ভোটার এই তালিকায় রয়েছে। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। রায়ের পর কমিশন দ্রুত কাজ শুরু করেছে। এখন সবাই নিজের নাম দেখে প্রয়োজনে আপত্তি জানাতে পারবে।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কী এবং কেন এত বিতর্ক
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি মানে ভোটার তালিকায় যৌক্তিক অসঙ্গতি। এটা মূলত ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। যেমন বাবা-মায়ের নামে অমিল, বা ভোটার ও তার অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হলে চিহ্নিত করা হয়। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এই চেকিং করা হয়েছে। এতে অনেক নির্দোষ ভোটারও আটকে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কেউ বলছে এটা ভোটারদের হয়রানি করার চেষ্টা। কিন্তু কমিশন বলছে এটা তালিকা সঠিক করার জন্যই। এই অসঙ্গতি সংশোধন না হলে নাম কাটা যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের কাজ এবং স্থানীয় প্রদর্শনের ব্যবস্থা
শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে এই তালিকা (Logical Discrepancy list in SIR) আপলোড করেছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে আনম্যাপড ভোটার এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির লিস্ট উভয়ই সাইটে রয়েছে। জেলা আধিকারিকরা এখন এগুলো ডাউনলোড করে স্থানীয় অফিসে টাঙাবেন। পঞ্চায়েত ভবন থেকে ব্লক অফিস সব জায়গায় এই ব্যবস্থা। এতে গ্রামের মানুষও সহজে চেক করতে পারবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শনিবারের মধ্যে এটা করতে হয়েছে। কমিশন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সফটওয়্যার নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। তবু নির্দেশ মেনেছে। এখন ভোটাররা ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবে।
রাজ্যের ভোটার সংখ্যা এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৭ কোটি। এর মধ্যে ১.২৫ কোটি নামে অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। এটা খুব বড় সংখ্যা। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় এই চেকিং চলছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটা করা হচ্ছে। মে মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই তালিকা সঠিক করা খুব জরুরি। কিন্তু এত বড় সংখ্যায় নোটিস পাঠানোয় অনেকে চিন্তিত। গ্রামাঞ্চলে অনেকের কাছে পুরনো ডকুমেন্ট নেই। বয়সের হিসাবে ছোটখাটো ভুল হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোটারদের করণীয় এবং সতর্কতা
যাদের নাম এই তালিকায় আছে তারা দ্রুত চেক করুন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন। স্থানীয় পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে গিয়েও লিস্ট দেখা যাবে। প্রয়োজনে ডকুমেন্ট জমা দিন। আপত্তি জানানোর সময় আছে। নিজে বা প্রতিনিধি দিয়ে শুনানিতে যান। এতে নাম বাদ পড়ার ভয় কমবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করলে তালিকা আরও নির্ভুল হবে। রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা দরকার। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে।
