ভারত সরকারের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (RSKY) আওতায় থাকা সমস্ত উপভোক্তাদের জন্য রেশন কার্ড (Ration Card) সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আপনি যদি নিয়মিত রেশন দোকান থেকে প্রতিমাসে চাল, গম বা অন্যান্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেশন কার্ডের সাথে আধার সংযোগ বা ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ না করলে আপনার রেশন কার্ডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এর ফলে আগামী মাস থেকে বিনামূল্যে তথা ফ্রি রেশন পাওয়া বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেরি না করে দ্রুত এই আইনি প্রক্রিয়াটি সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Aadhaar e KYC Mandatory Ration Card
সরকারি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রেশন বন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং জালিয়াতি রোধ করা। অনেক সময় দেখা যায়, মৃত ব্যক্তি বা অপাত্রদের নামেও দিনের পর দিন রেশন তোলা হচ্ছে। ই-কেওয়াইসি (Ration Card e KYC) বা আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই যেন এই প্রকল্পের সুবিধা পান। ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অযোগ্য কার্ডগুলো শনাক্ত করা এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সহজ হয়। এর ফলে সরকারের কোষাগারের অপচয় বন্ধ হবে এবং প্রকৃত দুস্থ পরিবারগুলো তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবে না। স্বচ্ছ বন্টন ব্যবস্থা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনলাইনে ঘরে বসে রেশন কার্ড ই-কেওয়াইসি করার সহজ পদ্ধতি
প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন আর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই, ঘরে বসেই আপনি এই কাজটি করতে পারেন। ই-কেওয়াইসি করার জন্য প্রথমে আপনার রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘লিঙ্ক আধার উইথ রেশন কার্ড’ (Link Aadhaar with Ration Card) নামক একটি বিকল্প বা লিঙ্ক দেখতে পাবেন। আপনার রেশন কার্ডের নম্বর এবং আধার কার্ডের নম্বর সঠিকভাবে প্রদান করে এগিয়ে যান। এরপর আপনার আধারের সাথে যুক্ত থাকা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। সেই ওটিপিটি নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে সাবমিট করলেই আপনার ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে যাবে। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ এবং সময় সাশ্রয়ী যা যে কেউ করতে পারেন।
অফলাইনে রেশন দোকানে গিয়ে আপডেট করার নিয়ম
যাঁরা প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন বা অনলাইনে সমস্যায় পড়ছেন, তাঁদের জন্য অফলাইন সুবিধাও খোলা রাখা হয়েছে। আপনি আপনার নিকটবর্তী রেশন ডিলারের দোকানে গিয়ে খুব সহজেই এই কাজটির সমাধান করতে পারেন। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আধার কার্ডের ফটোকপি এবং আসল Ration কার্ড সাথে নিয়ে রেশন দোকানে যেতে হবে। সেখানে ডিলারের কাছে থাকা ই-পস (e-POS) মেশিনে আপনার আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হবে। আঙুলের ছাপ মিলে গেলেই আপনার ই-কেওয়াইসি আপডেট হয়ে যাবে এবং আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন। মনে রাখবেন, এই সরকারি পরিষেবার জন্য ডিলারকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি আপনার রেশন কার্ডের তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন, কৃষকবন্ধুর টাকা পেলে কি যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাবেন? আবেদনের আগে জেনে নিন
আধার লিঙ্ক না থাকলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেশন কার্ডের সাথে আধার লিঙ্ক না করলে উপভোক্তারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। প্রথমত, খাদ্য দপ্তর আপনার কার্ডটিকে ‘সাসপেন্ড’ বা সাময়িক স্থগিত করে দিতে পারে, যার ফলে খাদ্যশস্য মিলবে না। দ্বিতীয়ত, পরিবারের যে সদস্যের ই-কেওয়াইসি করা থাকবে না, তার নাম রেশন তালিকা থেকে চিরতরে বাদ যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেও এই কার্ডটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ডিজিটাল রেশন কার্ডের সুবিধাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে আধার সংযোগ থাকা এখন একান্ত প্রয়োজন। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ তারিখের আগেই নিজের এবং পরিবারের সবার নাম যাচাই করে নিন।
উপসংহার ও সাধারণ সচেতনতা
রেশন কার্ডের ই-কেওয়াইসি করা কোনো জটিল বিষয় নয়, বরং এটি আপনার নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার একটি ধাপ। ২৮ ফেব্রুয়ারি সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আজই আপনার কার্ডের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি দেখেন আপনার আধার আগে থেকেই লিঙ্ক করা আছে, তবে নতুন করে কিছু করার প্রয়োজন নেই। তবে কোনো কারণে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি প্রকল্পের সঠিক সুবিধা পেতে এবং রেশন ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে আমাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য। তাই সচেতন হোন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই জরুরি কাজ পরিচালনা করে নিশ্চিত থাকুন। আপনার সামান্য সতর্কতা পরিবারের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশাল ভূমিকা পালন করবে।