রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের LPG খরচ মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এই কারণে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার তথা PMUY Free LPG Cylinder দেওয়ার ঘোষণা করেছে, দিল্লী শাসিত রাজ্য সরকার। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) পরিবারগুলোর জন্য দিল্লি রাজ্য সরকার হোলি উৎসবের আগেই এই ঘোষণা করেছে। এছাড়া সারা দেশব্যাপী রান্নার গ্যসের দাম (Liquified petroleum gas) কমানো নিয়েও চলতি বাজেটে বড় ঘোষণা আসতে পারে। বিস্তারিত জেনে নিন।
PMUY Free LPG Cylinder Sheme
দিল্লি সরকার বছরে দু’বার এই সুবিধা দেবে। একবার হোলিতে আরেকবার দীপাবলিতে। প্রত্যেক যোগ্য পরিবার পাবে একটা করে ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডারের সমান টাকা। বর্তমানে একটা সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৮৫০ টাকা। সরকার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাবে। এতে কোনো মধ্যস্থতাকারীর হাত থাকবে না। উত্তরপ্রদেশের ঘোষণার পর এবার দিল্লিতেও এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। আর রান্নার গ্যাস বুক করলেই, সরাসরি DBT পদ্ধতিতে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। প্রায় ১৭ লক্ষ পরিবার এর আওতায় আসবে।
বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার কারা পাবেন?
যাদের কাছে বৈধ রেশন কার্ড আছে তারাই মূলত যোগ্য। পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (PDS) অধীনে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত। দিল্লিতে মোট ১৭.১৮ লক্ষ রেশন কার্ডধারী রয়েছে। তাদের তালিকা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাইও শেষ। কোনো অতিরিক্ত আবেদনের ঝামেলা নেই। শুধু যোগ্যতা থাকলেই সুবিধা মিলবে। এতে দরিদ্র মানুষের উৎসবের আনন্দ আরও বাড়বে।
বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রদানের কারন
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে বিজেপি সরকার বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। আর ভোটের জেতার পরই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা। যদিও সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রান্নার গ্যাসের দাম লাগাতার বাড়ছে, উৎসবের সময় খরচ আরও বেড়ে যায়। অনেক পরিবারের কাছে এটা বড় সমস্যার। তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত। বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার স্কিমে মোট ৩০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার ঘরে স্বস্তি আসবে। উৎসবের রান্না করতে আর চিন্তা করতে হবে না।
কিভাবে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন?
সরকার সিলিন্ডার সরাসরি দেবে না। তার বদলে টাকা দেবে। আধার লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)। এতে দুর্নীতির সম্ভাবনা কমে যায়। লোকাল গ্যাস এজেন্সি থেকে পরিবার নিজেরাই সিলিন্ডার কিনতে পারবে। এই টাকা দিয়ে তারা রান্নার কাজ চালাতে পারবে। হোলির আগেই প্রথম কিস্তি পৌঁছে যাবে। এতে উৎসবের প্রস্তুতি সহজ হবে।
দিল্লির এই প্রকল্পের অন্যান্য দিক
এই স্কিম শুধু দরিদ্রদের জন্য নয়। মধ্যবিত্ত পরিবারও কিছুটা সুবিধা পাবে। রান্নার খরচ কমলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ কমে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে ঐতিহাসিক বলছেন। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে। উৎসবের সময় অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমবে। দিল্লির মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। এই প্রকল্প অন্য রাজ্যের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
উপসংহার
দিল্লি সরকারের এই ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডার স্কিম সত্যিই প্রশংসনীয়। হোলি ২০২৬-এর আগে এটা চালু হলে লক্ষ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে। রেশন কার্ড থাকলে আর চিন্তা নেই। সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা আসবে। রান্নাঘরের চুলা জ্বলবে উজ্জ্বলভাবে। উৎসবের রঙ আরও উজ্জ্বল হবে। এই সুবিধা নিয়ে সকলে সচেতন থাকুন। দিল্লির দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা বড় উপহার।
