কৃষকদের জন্য কেন্দ্র সরকার এবার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PM Fasal Bima Yojana) নামে একটি দুর্দান্ত প্রকল্প চালু করলো। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাষের ফসল প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে চাষিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এই সংকট থেকে কৃষকদের বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে (PMFBY) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। কারা এই সুবিধা পাবেন, কি কি সুবিধা পাবেন, কিভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।
PM Fasal Bima Yojana: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা কি?
এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শস্য বিমা প্রকল্প (Crop Insurance). কৃষকদের সুবিধার্থে এতে ‘এক দেশ, এক ফসল, এক প্রিমিয়াম’ নীতি মানা হয়। প্রাকৃতিক কারণে ফসলের ক্ষতি হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সুরক্ষা মেলে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে খারিফ এবং রবি মরশুমে এটি চালু রয়েছে। চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে তাদের আর্থিক স্থায়িত্ব দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
কি কারনে টাকা দেওয়া হয়?
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা প্রকল্পে (PMFBY) ক্ষতিপূরণ মেলে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে সাহায্য পাওয়া যায়। এছাড়া শিলাবৃষ্টি, খেতে অতিরিক্ত জল জমা বা পোকার আক্রমণে ক্ষতি হলেও টাকা মেলে। এমনকি দুর্যোগের কারণে বীজ বপন করতে না পারলে বা কাটার পর ফসল নষ্ট হলেও সুবিধা থাকে। অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতির বিরুদ্ধেও এটি চাষিদের নিরাপত্তা দেয়।
কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
এই প্রকল্পে (PMFBY) কৃষকরা অত্যন্ত কম প্রিমিয়ামে ফসলের বিমা করার সুযোগ পান। খারিফ ও তৈলবীজের জন্য মাত্র ২ শতাংশ এবং রবি শস্যের জন্য ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম লাগে। বাণিজ্যিক বা বাগিচা ফসলের ক্ষেত্রে কৃষককে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়। বাকি ৯৫ থেকে ৯৮.৫ শতাংশ খরচ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে। পাহাড়ি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সরকার খরচের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত নিজেরা দিয়ে কৃষকদের ভার কমায়।
কারা টাকা পেতে পারেন?
যে কোনো নথিভুক্ত কৃষক যিনি নির্দিষ্ট মরশুমে অনুমোদিত ফসল ফলিয়েছেন, তিনি এর যোগ্য। নিজস্ব জমির মালিকদের পাশাপাশি বর্গা বা লিজ নিয়ে চাষ করা ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারেন। দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পেশ করতে হয়। তথ্য যাচাইয়ের পর কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করে। এই অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কতজন ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছে?
বিগত এক দশকে দেশের কয়েক কোটি কৃষক PM Fasal Bima Yojana প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯২ কোটিরও বেশি কৃষক এতে আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে ইতিমধ্য়েই ২৬ কোটিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সরাসরি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ মেটাতে সরকারের ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। এই বিপুল পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে প্রকল্পটির কার্যকারিতা কতটা ব্যাপক।
কিভাবে আবেদন করবেন?
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার সুবিধা পেতে কৃষকদের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। আবেদনকারীকে সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হবে। সাথে চাষ করা জমির সঠিক তথ্য এবং ফসলের ক্ষতির বিস্তারিত জমা দিতে হয়। আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে সরকার ডিবিটি (DBT) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়। এছাড়া পোর্টালে লগইন করে আবেদনের বর্তমান স্থিতিও সহজেই দেখা যায়।
উপসংহার
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (Crop Insurance) আজ দেশের কৃষকদের কাছে এক বিরাট ভরসার নাম। অত্যন্ত কম প্রিমিয়ামে মাঠের সব ফসলের পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়া এখন সম্ভব। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে আবেদন ও নজরদারি অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়েছে। তাই প্রতিটি কৃষকের উচিত এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে নিজের ফসলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা।