সারা দেশের কৃষক বন্ধু তথা কৃষকদের জন্য চালু হয়েছে PM Kisan Yojana. আর এই কৃষকেরাই কৃষিকাজ করে আমাদের জন্য খাদ্যসংস্থান করেন। আমাদের দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিকাজের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই সরকার কৃষকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু রাখে। এই সমস্ত প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলো প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা। উৎসবের এই মরশুমে দেশের কোটি কোটি কৃষক অধীর আগ্রহে পরবর্তী কিস্তির অপেক্ষা করছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা ঢুকলে চাষের কাজের পাশাপাশি তাঁদের উৎসবের আনন্দও অনেকটা বেড়ে যাবে।
PM Kisan 24th installment date 2026 – পিএম কিষাণ যোজনা
কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের কথা ভেবে এই প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর কৃষকদের মোট ৬০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। গোটা টাকাটি একবারে না দিয়ে বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে উপভোক্তারা সরাসরি ২০০০ টাকা করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে পান। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমে টাকা পাঠানোয় মাঝে কোনো দুর্নীতির সুযোগ থাকে না।
PM Kisan 24th installment date – পিএম কিসান 24 তম কিস্তির তারিখ
পিএম কিসান ২৪ তম কিস্তির টাকা কবে আসবে তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। বিগত বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যায় যে অক্টোবর বা নভেম্বর মাসেই এই কিস্তি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এই বছর দীপাবলি বা নবরাত্রির আগেই টাকা দেওয়া হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সরকারি তারিখের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তাই কৃষকদের শেষ মুহূর্তের বিজ্ঞপ্তির জন্য নিয়মিত অফিসিয়াল পোর্টালে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষক বন্ধুরা টাকা পাবেন?
যাঁরা সমস্ত নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই এই কিস্তির টাকা পাবেন। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল পরিচয় পত্র বা ফার্মার আইডি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিশেষ আইডিতে আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও চাষের জমির সমস্ত তথ্য ডিজিটালি জমা থাকবে। নিকটবর্তী সিএসসি সেন্টার অথবা রাজ্যের নিজস্ব কৃষি পোর্টালে গিয়ে এই আইডি সহজে তৈরি করা যায়। এছাড়া পুরোনো যোগ্য কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা না থাকলে টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া শুরু হলো। আবেদন করুন
কারা টাকা পাবেন না?
যে সমস্ত চাষি এখনও পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করেননি তাঁরা টাকা পাবেন না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে লিঙ্ক করা না থাকলে পেমেন্ট আটকে যাবে। আবেদনপত্রে নামের বানান কিংবা জমির কাগজপত্রে কোনো রকম গরমিল ধরা পড়লেও নাম বাদ পড়ে। ভুল তথ্য দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা আবেদন করে থাকলে তাঁদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে সরানো হচ্ছে। তাই টাকা পাওয়ার তালিকায় নিজের নাম নিশ্চিত রাখতে সমস্ত তথ্য সময়মতো আপডেট করে রাখা জরুরি।
উপসংহার
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি দেশের সাধারণ কৃষকদের আর্থিক সংকট কাটাতে দারুণ ভরসা জোগায়। সঠিক সময়ে ২০০০ টাকার সহায়তা পেলে চাষের সার ও বীজ কেনার ক্ষেত্রে কৃষকদের বেশ কিছুটা সুবিধা হয়। তাই কোনো ধরনের বিলম্ব এড়াতে কৃষকদের অবিলম্বে তাদের অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে রাখলে সরকারি ঘোষণার সাথে সাথেই টাকা পেতে কোনো বাধা থাকবে না। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশকে অনেক বেশি গতিশীল ও মজবুত করে তুলছে।