রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) জন্য এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। যার জেরে আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া একাধিক পরিষেবা বন্ধ করে নতুন করে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কি বিউপ্তি প্রকাশিত হলো, কি কি করতে হবে, কাদের জন্য এই নির্দেশ, বিস্তারিত জেনে নিন।
Government Employees: সরকারি কর্মীদের জরুরী নির্দেশ
নবান্নের পক্ষ থেকে সমস্ত বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees:) জন্য এক জরুরী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে কর্মীদের অবিলম্বে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthyasathi Card) নিজ নিজ দফতরে জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য একটি চূড়ান্ত সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে পদক্ষেপ
প্রশাসনের নজরে এসেছে যে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক চিকিৎসা প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন। কিছু কর্মচারী ও পেনশনভোগী রাজ্য সরকারের নিজস্ব হেলথ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সুবিধা ধরে রেখেছেন। একসাথে দুই ধরনের সুবিধা গ্রহণ সরকারি নিয়মনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সেই কারণেই প্রশাসনিক দফতরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের জমা দেওয়া সমস্ত ঘোষণাপত্র গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার জন্য। প্রতিটি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এখন সমস্ত নথি খুব খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন।
আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্যসাথী
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হলো আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) বা পিএম-জেএওয়াই। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ভরসা হিসেবে রয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পরিষেবাও। এই প্রকল্পগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো দুস্থ ও সাধারণ নাগরিকদের বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সরকারি বেতনভুক কর্মীরা একই সাথে একাধিক বিমা প্রকল্পের সুবিধা নিলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বিঘ্নিত হয়।
আরও পড়ুন, সমস্ত পেনশনভোগীদের লাইফ সার্টিফিকেট নিয়ে জরুরী নির্দেশ।
কি করতে হবে?
যে সমস্ত কর্মীর কাছে এই কার্ড রয়েছে তাদের অবিলম্বে নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মী যে দফতরে কর্মরত আছেন সেখানেই নিয়ম মেনে কার্ডটি সমর্পণ করতে হবে। কার্ড জমা দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত বয়ানে একটি লিখিত ঘোষণাপত্র বা সেলফ ডিক্লারেশন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কার্ড ও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর দফতর থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রাপ্তি রসিদ সংগ্রহ করে যত্ন সহকারে রাখতে হবে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।
উপসংহার
সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সঠিক ও নীতিসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ। এতে প্রকৃত অভাবী এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া রোধ করা সম্ভব হবে। সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও সততা বজায় রেখে দ্রুত এই নির্দেশ মেনে চলা উচিত। নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই এই কাজ সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিয়ম মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে কর্মীরা যে কোনও সম্ভাব্য প্রশাসনিক জটিলতা বা কঠোর ব্যবস্থা এড়াতে পারবেন।