Yuva Sathi: কৃষকবন্ধুর টাকা পেলে কি যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাবেন? আবেদনের আগে জেনে নিন

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) নতুন যুবসাথী প্রকল্প (Yuva Sathi Prakalpa) নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এই যুব সাথী প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, যোগ্যতা নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। গ্রাম বাংলার বহু তরুণ বর্তমানে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন এবং তারা এই নতুন প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা ও সাম্প্রতিক ক্যাম্পগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে এই বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন করলে শুধুমাত্র সময় নষ্ট নয়, বরং আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনের আগে ২০২৬ সালের নতুন নিয়মাবলী এবং যোগ্যতার মাপকাঠিগুলো ভালো করে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

Yuva Sathi with Krishak Bandhu Scheme

অনেকেই মনে করেন যে তারা বেকার, তাই যুবসাথী প্রকল্পের ১৫০০ টাকা পাওয়ার জন্য তারা সম্পূর্ণ যোগ্য। তবে সরকারি নথিতে আপনার বর্তমান পেশাগত অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা ইতিমধ্যেই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, সরকারি খাতায় তারা মূলত একজন নথিভুক্ত ‘কৃষক’ হিসেবে চিহ্নিত হন। যেহেতু কৃষি কাজ একটি সম্মানজনক পেশা, তাই প্রযুক্তিগতভাবে সেই ব্যক্তি আর ‘বেকার’ হিসেবে গণ্য হন না।

কৃষকবন্ধু ও যুবসাথী: কেন একসঙ্গে দুটি সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়?

যুবসাথী প্রকল্পটি মূলত সেই সমস্ত তরুণ-তরুণীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাদের উপার্জনের কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই। ফলে কৃষকবন্ধুর বার্ষিক অনুদান পাওয়া ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকছেন বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। শুধুমাত্র কৃষক বন্ধুই নয়, স্কলারশিপ বাদে যেকোনো প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাবে না।

অন্যান্য সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে কড়া নিয়মাবলী

শুধুমাত্র কৃষকবন্ধু নয়, আরও বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো মহিলা আগে থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পান, তবে তিনি যুবসাথীর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে যারা বার্ধক্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা পেনশন পাচ্ছেন, তাদের আবেদনও সরাসরি বাতিল করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরিবারের কাছে অন্তত একটি আর্থিক সহায়তার উৎস পৌঁছে দেওয়া। তবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সামান্য সুখবর রয়েছে, যারা পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ পাচ্ছেন তারা হয়তো বিশেষ বিবেচনায় আসতে পারেন। মূলত পড়াশোনা শেষ করে যারা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ভুল তথ্য দিয়ে আবেদনের পরিণাম ও ডিজিটাল যাচাইকরণ

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই যুগে সরকারি তথ্য গোপন করে সুবিধা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি সরকারি প্রকল্প এখন আবেদনকারীর আধার কার্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত বা লিঙ্ক করা থাকে। যখনই আপনি যুবসাথী প্রকল্পের জন্য তথ্য জমা দেবেন, সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার আধার নম্বর যাচাই করবে। আপনি যদি অন্য কোনো প্রকল্পের টাকা পান, তবে মুহূর্তের মধ্যে তা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। এর ফলে আপনার আবেদনটি কোনো কারণ না দেখিয়েই সরাসরি রিজেক্ট বা বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি জেনেশুনে ভুল তথ্য প্রদানের জন্য ব্লক অফিস থেকে আইনি নোটিশও পাঠানো হতে পারে। তাই স্বচ্ছতার সাথে সঠিক তথ্য প্রদান করাই হবে একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান কাজ।

যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি

বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্লকে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য বিশেষ ক্যাম্প বা দুয়ারে সরকার শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। যারা অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান না, তাদের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও গতিশীল। প্রথমে ক্যাম্পে গিয়ে আধার কার্ড ও একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রাথমিক নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর আধিকারিকরা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ প্রদান করবেন যা ফর্মে সঠিকভাবে লিখতে হবে। সমস্ত নথি যাচাই করার পর আবেদনপত্রের রিসিভ কপিতে স্ট্যাম্প ও সই করে আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে। এই রিসিভ কপিটি ভবিষ্যতের রেফারেন্স হিসেবে অত্যন্ত যত্নে গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন হবে। যারা সম্পূর্ণ যোগ্য, তারা এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব দ্রুত সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

click here red button

সঠিক তথ্য জেনে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ

পরিশেষে বলা যায়, বাংলার যুবসাথী প্রকল্প বেকারদের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। তবে হুজুগে পড়ে বা না জেনে Banglar Yuva sathi Form Fill Up করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। আপনার যদি নিজস্ব জমি থাকে এবং আপনি কৃষকবন্ধুর সুবিধাভোগী হন, তবে অযথা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করবেন না। কারণ সরকারি নিয়মের বেড়াজালে আপনার আবেদনটি শেষ পর্যন্ত গ্রাহ্য হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। বরং যারা প্রকৃত অর্থে বেকার এবং কোনো সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন না, তাদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। সরকারের এই নির্দেশিকাগুলো মেনে চললে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই কমবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। তাই সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বর্তমানে শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ হবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!