অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ভেরিফিকেশন চলছে। আর এই ভেরিফিকেশনে কয়েকটি জিনিস পাওয়া গেছে, যেখানে লাখ লাখ একাউন্টে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগামী নভেম্বর মাস থেকেই বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢোকা বন্ধ হতে পারে। তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রুখতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলে এই মাসে কারা টাকা পাবেন, কার কাদের একাউন্ট বন্ধ হতে পারে, জেনে নিন।
Annapurna Yojana – অন্নপূর্ণা যোজনা
রাজ্যের পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা পাঠানো হয়। চালু হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই ভাতা সাধারণ মহিলাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা প্রতি মাসের এই আর্থিক অনুদান থেকে উপকৃত হয়েছেন।
কয়েক লাখ নাম বাদ পড়তে পারে
নভেম্বর মাসের কিস্তি ছাড়ার আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় (Annapurna Yojana List) বড়সড় ঝাড়াই-বাছাই শুরু করেছে প্রশাসন। সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলা থেকে যাচাই প্রক্রিয়ার পর কয়েক লাখ নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে বহু অযোগ্য ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়ে এই প্রকল্পে নাম তুলেছিলেন। তাই ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথিপত্র পুনঃপরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব আবেদনপত্রে নিয়মভঙ্গ ধরা পড়ছে, তাঁদের নাম সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বাতিল করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য কারণ
মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণেই উপভোক্তাদের নাম অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা থেকে কাটা যেতে পারে।
- পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে
- কিংবা সরকারি পেনশন পেলে
- আগে থেকে কোনো সরকারি আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকলে
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার সংযুক্ত না থাকলে
- একাউন্টে ডিবিটি লিঙ্ক না থাকলে
এইমাসের টাকা কবে ঢুকবে?
নভেম্বর মাসের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া নিয়ে উপভোক্তাদের মনে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণত মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে বর্তমান নথি যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে এই মাসে টাকা ঢুকতে কিছুটা দেরি হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সমস্ত তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই যোগ্যদের টাকা দেওয়া শুরু হবে। যাঁদের নথিপত্র সম্পূর্ণ ঠিক রয়েছে এবং ডিবিটি চালু আছে, তাঁদের টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
উপসংহার
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেজন্যই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই কড়া নজরদারির ফলে যোগ্য উপভোক্তাদের বাদ পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কেবল ভুয়ো ও অযোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা থেকে সরিয়ে সঠিক প্রাপকদের সহায়তা করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।