পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে চালু হতে চলেছে বেকার ভাতা ভরসা স্কিম (Bekar Bhata Bharosa Scheme). হুগলির পুরশুড়া থেকে এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari). সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের পাশে আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দাঁড়ানো। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতী স্থায়ী কাজ পাওয়ার আগে পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেতে পারেন। এই প্রকল্পের বিবরণ, যোগ্যতা, কবে চালু হবে, কিভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।
Bharosa Scheme: বাংলার ভরসা স্কিম বেকার ভাতা প্রকল্প
রাজ্যের এই নতুন কল্যাণমূলক উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভরসা স্কিম’। ভোটের আগে দেওয়া যুবশক্তি ভরসা কার্ডের (Yuva Shakti Bharosa Card) প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পের শুভ সুচনা ও আবেদন শুরু হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। স্থায়ী চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত যোগ্য যুবক-যুবতীদের পাশে এই সরকার থাকবে।
যুবশক্তি ভরসা প্রকল্পের সুবিধা
এই স্কিমের (Bharosa Scheme) আওতায় গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েট উভয় শ্রেণির প্রার্থীরাই আর্থিক সাহায্য পাবেন। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়ার কারণে তরুণদের দৈনন্দিন হাতখরচের চিন্তা অনেকটাই কমবে। চাকরির পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া বা বিভিন্ন কোর্সের খরচ চালানো এবার সহজ হবে। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসায় প্রার্থীরা নতুন উদ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এই সরাসরি অনুদান রাজ্যের বেকারদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে।
ভরসা প্রকল্পে আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ও বৈধ নাগরিক হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক থেকে স্নাতক স্তর পর্যন্ত উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রার্থীর পারিবারিক বাৎসরিক আয় রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা আর্থিক স্কিমের সুবিধাভোগীরা এতে আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনকারীর বয়স সরকারি নিয়মমাফিক কর্মক্ষম বয়সের নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে হওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজনীয় নথি ও যোগ্যতা
ভরসা প্রকল্পে আবেদনের সময় পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সব মার্কশিট এবং পাস সার্টিফিকেট সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। ভাতা সরাসরি পাওয়ার জন্য প্রার্থীর নিজের নামে সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি। সাথে পরিবারের আয়ের বৈধ শংসাপত্র ও স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণপত্র জমা করতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে প্রার্থীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিও যুক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন, ১৮ বছর হলেই মেয়েদের ৭০০০ টাকা করে দিচ্ছে। আবেদন করুন
উপসংহার
এই প্রকল্প চালু হওয়ায় রাজ্যের কর্মহীন যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছে। প্রতি মাসের এই সহায়তা বহু পরিবারকে কঠিন সময়ে আর্থিক দিক থেকে সামলে রাখবে। সঠিক ও স্বচ্ছ নিয়মে যোগ্য প্রার্থীদের হাতে টাকা পৌঁছালে প্রকল্পের সার্থকতা বজায় থাকবে। যুবকদের স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা পালন করবে।