পশ্চিমবঙ্গের লোধা-শবর জনজাতিদের (Lodha Sabar community) জন্য ৩৪২ কোটি টাকার আরেকটি জনমুখি প্রকল্প চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary). যেখানে ছেলে মেয়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে উপকৃত হবেন লাখ লাখ মানুষ। কাদের জন্য এই প্রকল্প, কিভাবে আপাবেন, কি কি সুবিধা পাবেন, কিভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন। লোধা-শবর জনজাতি (Lodha Sabar community)
বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার দেবে সরকার
অপুষ্টি দূর করতে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য কিট বিলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সরাসরি উপভোক্তা পরিবারগুলির বাড়িতে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি কিটে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল ও প্রোটিনযুক্ত সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত থাকছে। নিয়মিত রেশনের অতিরিক্ত হিসেবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পুষ্টিকর সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর ফলে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা খুব সহজেই পূরণ হবে। শুধু খাদ্যই নয়, এই প্রকল্পে আরও একাধিক সুবিধা রয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ
খাদ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া লোধা-শবর জনজাতি (Lodha Sabar community) তথা আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন। সেই উদ্দেশ্যে ঝাড়গ্রামের প্রায় ২ লক্ষ জনজাতি পড়ুয়াকে এসটি বৃত্তি (ST Scholarship) দেওয়া হবে। প্রতিটি যোগ্য ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনার সহায়তার জন্য এককালীন ৮০০ টাকা করে অনুদান পাবে। সরকারি এই আর্থিক সহায়তার ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
জঙ্গলমহলের অতি অনগ্রসর ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী পরিবারগুলি এই সুবিধা পাবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম জেলার প্রায় ২৫ হাজার লোধা-শবর পরিবার সরাসরি এই সাহায্য লাভ করবে। অর্থাৎ দুই জেলা মিলিয়ে সর্বমোট ৭০ হাজার পরিবার প্রতি সপ্তাহে খাদ্যসামগ্রী পাবে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থকষ্টে ভোগা পরিবারগুলির খাদ্য সংকট মেটাতে এটি বড় ভূমিকা নেবে।
আরও পড়ুন, রেশন কার্ড থাকলেই মিলবে, বিনামূল্যে। কীভাবে আবেদন করবেন
আর্থিক বরাদ্দ ও পরিকল্পনা
ঝাড়গ্রামের সার্বিক বিকাশে একটি বড় আর্থিক প্যাকেজের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নে মোট ৩৪২ কোটি টাকা (34.20 Millions Rupees) বরাদ্দ হচ্ছে। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলির আধুনিকীকরণ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করতে এই অর্থ ব্যয় হবে। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি এই বিপুল বরাদ্দ স্থানীয় অর্থনীতিকে যথেষ্ট গতিশীল করে তুলবে। সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ জঙ্গলমহলের সামগ্রিক চেহারা বদলে দিতে সাহায্য করবে।
উপসংহার
জঙ্গলমহলের প্রান্তিক মানুষের পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিয়মিত খাদ্য কিটের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন তহবিল এলাকার মানুষের আস্থা বাড়াবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ভিত আরও শক্ত হবে। প্রশাসনের নজরদারি সঠিক থাকলে এই উদ্যোগ অনগ্রসর জনজাতির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সার্বিকভাবে এই সমন্বিত প্রয়াস জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকে সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত করবে।