সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে আধার কার্ড ও রেশন কার্ড (Ration Card) এখন অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র। রেশন কার্ড ও আধার কার্ড শুধুমাত্র পরিচয়পত্র নয়। আধার কার্ড যেমন বহু মানুষের অন্নসংস্থান জোগাড় করে, অন্যদিকে রেশন কার্ড প্রতিমাসে প্রচুর পরিমানে খাদ্যের যোগান দেয়। তবে আধার ও রেশন কার্দের সাথে বায়োমেট্রিক তথ্য না মিললেও, সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই যান্ত্রিক বা নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয়। জনসাধারণের এই সমস্যা দূর করতে ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ (UIDAI) পাঁচটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত রেশন বিতরণ ব্যবস্থা সহজ ও নির্বিঘ্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Ration Card: রেশন তোলা আরও সহজ
রেশন দোকানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি দূর করতে ইতিমধ্যেই সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রেশন দোকানে ভিড় কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। সারা মাসে একবার সবার রেশন তোলার ব্যবস্থা হয়েছে। আর এবার রেশনে বায়োমেট্রিক এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
আধার কার্ড না থাকলেও পরিষেবা পাবেন
আধার কার্ড বর্তমানে ব্যাংক একাউন্ট থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক। তবে অনেকেরই বায়োমেট্রিক তথ্য না মেলায় রেশন থেকে বঞ্চিত হন। তবে সরকার জানিয়েছে, আধার কার্ড না থাকলেও কোনও সরকারি পরিষেবা পাওয়া বন্ধ হবে না। ব্যবহারকারীদের জন্য ‘SWIK 2.0’ পোর্টাল ও বহুভাষিক ওয়েবসাইট চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘরে বসেই গ্রাহকেরা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাইকরণ সেরে নিতে পারবেন। ফলে মূল কাগজের কার্ড কাছে না থাকলেও অনলাইন নথির মাধ্যমে দরকারি সরকারি কাজ আটকে থাকবে না।
আধার কার্ড এর ফিঙ্গার প্রিন্ট না মিললেও রেশন পাবেন
আঙুলের ছাপের বদলে ফেস অথেন্টিকেশনঃ বয়স বা অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের কারণে অনেক প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষের হাতের আঙুলের ছাপ মুছে যায়। এতে রেশন দোকানে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় খাদ্যশস্য পেতে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হতো। এই ভোগান্তি দূর করতে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক ফেস অথেন্টিকেশন ব্যবস্থা। উপভোক্তার সম্মতিতে মুখের ছবি স্ক্যান করে কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের মাধ্যমে সরাসরি পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ না মিললেও কাউকে আর রেশন সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। রেশন কার্ড e-KYC করুন।
আধার ও রেশন কার্ড সংযোগ
সরকারি খাদ্য প্রকল্পের সঠিক বণ্টন বজায় রাখতে রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বরের e-KYC যাচাই বাধ্যতামূলক। এই যাচাইকরণ নিশ্চিত করলে ভুয়ো কার্ড বন্ধ হয় এবং যোগ্য উপভোক্তারাই খাদ্য পান। গ্রাহকেরা সহজেই নিকটবর্তী রেশন দোকান বা অনুমোদিত সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে এই বায়োমেট্রিক সংযোগ সম্পন্ন করতে পারেন। খাদ্যসামগ্রী তোলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না চাইলে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের e-KYC করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
আধার ও রেশন ব্যবস্থার এই আধুনিক রূপান্তর প্রান্তিক ও সাধারণ নাগরিকদের সরকারি হয়রানি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। রেশন কার্ড (Ration Card) এ আঙুলের ছাপের জটিলতা কাটিয়ে ফেস অথেন্টিকেশন চালু করায় ন্যায্য খাদ্যশস্য পাওয়া এখন অনেক নিশ্চিত। প্রতিটি পরিবারের উচিত নিজেদের পরিচয়পত্র ও খাদ্য সুরক্ষা তথ্য সঠিক উপায়ে হালনাগাদ রাখা।