দুর্গাপূজার আগে সমস্ত রেশন গ্রাহকদের জন্য দারুণ সুখবর। রেশনে বিশেষ ফেস্টিভ্যাল প্যাকেজ (Ration Items List) দিচ্ছে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রেশনে বিশেষ ফেস্টিভ্যাল প্যাকেজ (Ration Bonaza Festival Package) ঘোষণা করেছে। উৎসবের মরশুমে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষদের স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খোলা বাজারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে খাদ্য দপ্তর বিশেষ ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে পূজার আনন্দে মেতে ওঠার আগেই ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে যাবে।
Ration Items List: পুজোয় রেশনে ফেস্টিভ্যাল প্যাকেজ
পূজার দিনগুলোতে পরিবারে নানা খাবার তৈরির কথা ভেবে এই প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। এই প্যাকেজের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় দুই কোটি পরিবারের আট কোটি মানুষ সুবিধা পাবেন। খাদ্য দপ্তর এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। খোলা বাজারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে এই খাদ্যসামগ্রী বিলি করা হবে। উৎসবের আগে রেশন ডিলারদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে এই প্যাকেজ বিতরণ করা হবে।
কোন কার্ডে কি কি দেওয়া হচ্ছে?
সাধারণ রেশন কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে এই বিশেষ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। উপভোক্তারা পরিবার পিছু ১ কেজি ময়দা এবং ১ কেজি চিনি সংগ্রহ করতে পারবেন। খাদ্য দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী প্রতি কেজি ময়দার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৯ টাকা। বাজারে দাম বেশি হলেও রেশনে প্রতি কেজি চিনি মিলবে মাত্র ৩০ টাকায়। চিনি ও ময়দা সরবরাহের জন্য যাবতীয় সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
সুজির পরিমাণ দ্বিগুন হলো
প্রাথমিক ঘোষণায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫০ গ্রাম সুজি বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। তবে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, একটি পরিবারের জন্য এই পরিমাণ অত্যন্ত কম। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে সুজির বরাদ্দ সরাসরি দ্বিগুণ করার কথা জানান। নতুন নিয়মে এখন পরিবার পিছু ২৫০ গ্রামের বদলে পুরো ৫০০ গ্রাম সুজি দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার পরিবারগুলো ১ কেজি ময়দা, ১ কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম সুজি পাবে।
আরও পড়ুন, পুজোর আগেই একুন্টে ঢুকবে ২৭০০০ টাকা। কারা পাবেন জেনে নিন
পুজোয় রেশন দোকান বন্ধ থাকবে
উৎসবের দিনগুলোতে রেশন বণ্টন ব্যবস্থা চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল রয়েছে। সরকারি ছুটির কারণে পূজার মূল দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই রেশন দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে সপ্তমী থেকে দশমী এবং বিজয়ার ছুটির দিনগুলোতে সামগ্রী বিতরণ বন্ধ রাখা হবে। তাই পূজার শুরুতেই নিজ নিজ রেশন ডিলারের কাছ থেকে বরাদ্দ সামগ্রী সংগ্রহ করা দরকার। আগেভাগে খাদ্যপণ্য তুলে রাখলে উৎসবের সময় কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না।
উপসংহার
দুর্গাপূজার মুখে রাজ্য সরকারের এই ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যসামগ্রী প্রদান অত্যন্ত প্রশংসনীয় এক উদ্যোগ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কম দামে সুজি, চিনি ও ময়দা মেলায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। সুজির পরিমাণ দ্বিগুণ করায় উৎসবের দিনে মিষ্টিমুখের আয়োজন আরও সহজ হয়ে উঠেছে। নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই প্রকল্প পূজার আনন্দকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। সার্বিকভাবে এই বিশেষ ফেস্টিভ্যাল প্যাকেজ উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।