Gold Ring Scheme: প্রত্যেক শিশুকে ১ গ্রামের সোনার আংটি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারা পাবেন, শর্তাবলী, কিভাবে আবেদন করবেন, কোন রাজ্যে, বিস্তারিত জেনে নিন

সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আরও একটি অভিনব সরকারি প্রকল্প। নবজাতকদের জন্য ১ গ্রামের সোনার আংটি (Gold Ring Scheme) দেওয়ার বড় ঘোষণা করলো। এই খবর সংবাদ মাধ্যমে পৌছতেই শোরগোল পড়ে গেছে। সোনার দাম এমনিতেই আকাশ ছুয়েছে, তার মধ্যে বিনামূল্যে সোনা দেওয়ার ঘোষণায় কার্যত খুশির হাওয়া মায়েদের।

Gold Ring Scheme – নবজাতক শিশুদের সোনার আংটি

নবজাতক শিশুদের জন্য সরকারের এই উপহারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো খাঁটি সোনা। সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে প্রতিটি সদ্যোজাত শিশুকে ১ গ্রাম ওজনের সোনার আংটি উপহার দেওয়া হবে। প্রকল্পের প্রথম কিস্তির জন্য ইতিমধ্যে সরকার ১.২৮ লক্ষ আংটি তৈরি করে মজুত রেখেছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অনিয়ম রুখতে প্রতিটি আংটিতে একটি নির্দিষ্ট ইউনিক সিরিয়াল নম্বর খোদাই করা থাকবে। উপহারের এই সোনার তৈরি আংটিগুলি অভিভাবকদের হাতে সম্পূর্ণ সিল করা ট্যাম্পার-প্রুফ প্যাকেটে তুলে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের সরকার (C Joseph Vijay) আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহতী সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ উদ্যোগের শুভ সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। শিশু ও মাতৃকল্যাণে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও জনপ্রিয় করতেই Gold Ring Scheme এর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রাতরাশ প্রকল্পের পরিধিও বড় আকারে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের এই জোড়া সামাজিক পদক্ষেপে গোটা রাজ্য জুড়ে ব্যাপক প্রশংসার আবহ তৈরি হয়েছে।

Gold Ring Scheme কারা পাবেন?

এই চমৎকার সুবিধার আওতায় আসবে রাজ্যের হাজার হাজার পরিবার। প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে সুবিধাভোগীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। রাজ্যের সকল আর্থ-সামাজিক স্তরের পরিবারই এই উপহার পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কন্যা বা পুত্র উভয় শিশুর জন্মেই এই উপহার মিলবে। পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা নির্বিশেষে প্রতিটি যোগ্য নবজাতক সমান মর্যাদায় এই উপহার পাবে।

সোনার আংটি পাওয়ার শর্তাবলী

বিনামূল্যে সোনার আংটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপহারের আংটি পেতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক নিয়ম পূরণ করতে হবে। প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো শিশুটিকে অবশ্যই রাজ্যের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করতে হবে। বেসরকারি নার্সিংহোম বা বাড়িতে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই উপহারের আওতায় আসবে না। হাসপাতালে প্রসবের সঠিক নথি এবং শিশুর জন্মের বৈধ চিকিৎসাগত প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধি এবং মাতৃমৃত্যুর হার কমাতেই এই শর্তটি যুক্ত করা হয়েছে।

কিভাবে আবেদন করবেন?

উপহারের আংটি পাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য অত্যন্ত সহজ ও সরল রাখা হয়েছে। অভিভাবকদের আলাদা করে কোনো সরকারি দপ্তর বা অনলাইন পোর্টালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে হবে না। সরকারি হাসপাতালে প্রসব সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি হবে। শিশুর প্রয়োজনীয় জন্ম নথিপত্র এবং বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র যাচাই করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপহার তুলে দেবে। ফলে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়াই প্রকৃত উপভোক্তার হাতে উপহার পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন, প্রতিমাসে ১৫০০০ টাকা করে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, আবেদন করুন।

উপসংহার

নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি প্রদানের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক নজিরবিহীন ও প্রশংসনীয় সামাজিক উদ্যোগ। এটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং নবজাতকের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আশীর্বাদস্বরূপ। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সুনিশ্চিত হওয়ায় মা ও শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়বে। সরকারের এমন দূরদর্শী ও মানবিক কল্যাণমূলক নীতি সমাজে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!