Madhyamik Scrutiny: মাধ্যমিক রেজাল্ট নিয়ে অখুশি? মাধ্যমিক খাতা স্ক্রুটিনির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। কিভাবে আবেদন করবেন?

Madhyamik Scrutiny: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত (WBBSE Madhyamik Result 2026) হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীর মনেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ আশানুরূপ ফল করে আনন্দিত, আবার কেউ প্রত্যাশিত নম্বর না পেয়ে হতাশায় ডুবেছেন। পর্ষদ জানিয়েছে, যদি কোনো পরীক্ষার্থীর মনে হয় তার প্রাপ্ত নম্বর সঠিক নয়, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের এই সংশয় দূর করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রতি বছরের মতো এবারও মাধ্যমিক খাতা স্ক্রুটিনি (PPS Madhyamik Scrutiny) এবং রিভিউ (PPR Madhyamik Scrutiny) করার সুযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি পর্ষদের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে আবেদনের সময়সীমা ও নিয়মাবলী স্পষ্ট করা হয়েছে।

WBBSE Madhyamik Scrutiny PPS and PPR

মাধ্যমিকের খাতা পুনরায় পরীক্ষার জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। যে সকল পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কিন্তু প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নয়, তারা পোস্ট পাবলিকেশন স্ক্রুটিনি বা পিপিএস-এর জন্য আবেদন করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেখা হয় যে খাতার সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না এবং নম্বর যোগ করতে কোনো ভুল হয়েছে কি না। অন্যদিকে, যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা ফেল করেছে, তাদের জন্য রয়েছে পোস্ট পাবলিকেশন রিভিউ বা পিপিআর-এর (Madhyamik Scrutiny and Review) সুবর্ণ সুযোগ। রিভিউ প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্রটি আরও গভীরভাবে পুনরায় মূল্যায়ন করার অবকাশ থাকে যাতে পরীক্ষার্থীর পাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

মাধ্যমিক খাতা স্ক্রুটিনি আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

অনেকেই মনে করেন পরীক্ষার্থীরা সরাসরি পর্ষদের কাছে আবেদন করতে পারে (Madhyamik Scrutiny), কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়। পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আবেদন জমা দিতে পারবে না। প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে তার সংশ্লিষ্ট স্কুলের মাধ্যমেই এই আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন করার জন্য একটি সাদা কাগজে নিজের নাম, রোল নম্বর এবং যে যে বিষয়গুলি স্ক্রুটিনি বা রিভিউ করাতে চায় তা লিখে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি মাধ্যমিকের মার্কশিটের একটি ফটোকপি বা জেরক্স এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ আবেদন ফি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মাধ্যমিক খাতা স্ক্রুটিনি স্ক্রুটিনি ও রিভিউ ফি

যেকোনো সরকারি প্রক্রিয়ার মতো এই পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতির জন্যও পর্ষদ একটি নির্দিষ্ট ফি ধার্য করেছে যা খুবই সামান্য। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি বিষয়ে স্ক্রুটিনি বা পিপিএস (Madhyamik PPR PPS) করার জন্য পরীক্ষার্থীকে ৮০ টাকা হারে ফি জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রতিটি বিষয়ে রিভিউ বা পিপিআর (PPR) করার খরচ রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। এই নির্ধারিত ফি-র পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক বা আনুষঙ্গিক কাজের খরচ বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা অতিরিক্ত নিতে পারে। পর্ষদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা নেওয়া কোনোভাবেই আইনসম্মত হবে না।

আবেদনের সময়সীমা

মাধ্যমিকের খাতা যাচাইয়ের (Madhyamik Scrutiny) জন্য পর্ষদ অত্যন্ত সীমিত সময় বরাদ্দ করেছে, তাই সময় থাকতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পর্ষদের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ৮ই মে বিকেল ৪টে থেকে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীরা আগামী ২২শে মে রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে স্কুলের মাধ্যমে তাদের আবেদন নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবে। নির্দিষ্ট এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে পর্ষদ আর কোনো নতুন আবেদন গ্রহণ করবে না বলে কড়াভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই যারা নিজেদের ফলাফল নিয়ে সন্দিহান, তাদের উচিত দেরি না করে দ্রুত স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

এখানে আবেদন করুন।

আরটিআই (RTI) করে নিজের খাতা দেখার বিশেষ সুযোগ

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র নম্বর সংশোধনে সন্তুষ্ট হয় না, তারা নিজেদের উত্তরপত্রটি স্বচক্ষে দেখতে চায়। তাদের জন্য রয়েছে ২০০৫ সালের তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI) করার একটি চমৎকার আইনি সুযোগ। এই আইনের আওতায় আবেদন করলে পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের উত্তরপত্রের একটি সার্টিফায়েড ফটোকপি বা প্রতিলিপি সরাসরি হাতে পেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, রেজাল্ট প্রকাশের ৭৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৩শে জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসে এই আবেদন পৌঁছাতে হবে। এর জন্য ১০ টাকার কোর্ট ফি এবং প্রতি পাতার কপির জন্য ২ টাকা করে প্রসেসিং চার্জ প্রদান করতে হয়।

ফলাফল সংশোধনের পরবর্তী ধাপ ও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পর্ষদ এক বিশেষ নির্দেশিকায় জানিয়েছে যে, যারা পিপিএস বা পিপিআর-এর আবেদন (Madhyamik PPR PPS) করবে, তারা সেই ফল না বের হওয়া পর্যন্ত আরটিআই করতে পারবে না। খাতা হাতে পাওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনো উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়নি বা যোগে বড় ভুল রয়েছে, তবে বিনামূল্যে তা সংশোধনের সুযোগ থাকে। তবে মনে রাখবেন, আরটিআই-এর মাধ্যমে শুধু খাতার কপি পাওয়া যায়, সেখানে কোনো পুনর্মূল্যায়ন বা নম্বর বাড়ানোর সরাসরি সুযোগ নেই। নম্বর নিয়ে প্রকৃত আপত্তি থাকলে প্রথমেই স্ক্রুটিনি বা রিভিউয়ের পথে হাঁটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে অভিজ্ঞ শিক্ষকমহল মনে করছেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে অনেক ক্ষেত্রে এক-দুই নম্বরের ব্যবধানেও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!