পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) দামামা বেজে উঠেছে এবং রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। আগামীকাল (Tribunal Supplementary List) রাজ্যের প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ঠিক নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কমিশন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার মাধ্যমে বহু মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আজ ভোরেই এই তালিকা কমিশনের দপ্তরে এসে পৌঁছেছে।
Tribunal Supplementary List – ট্রাইব্যুনাল লিস্ট চেক
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালে (Tribunal Supplementary List) যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদের তথ্য এখন অনলাইনে উপলব্ধ। ভোটাররা তাঁদের ব্যক্তিগত এপিক নম্বর ব্যবহার করে সহজেই নিজেদের নাম এই তালিকায় আছে কিনা তা যাচাই করে নিতে পারেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এ বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যাঁদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁরা প্রথম দফাতেই ভোট দিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের পূর্বনির্দেশ মেনেই কমিশন ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারাধীন ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করেছে। এই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন ‘অ্যাডিশন’ এবং ‘ডিলিশন’ উভয় তালিকাই প্রকাশ্যে এনেছে।
Tribunal Supplementary List – কতজন ভোটার নতুন করে সুযোগ পেলেন?
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের শুনানির পর মোট ১৩৬ জন নতুন করে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন। যদিও ট্রাইব্যুনাল মোট ১৩৮টি মামলার নিষ্পত্তি করেছিল, কিন্তু শুনানির পর দুজনের নাম তালিকা (Tribunal Supplementary List) থেকে বাদ পড়ে যায়। এই নিষ্পত্তির পর কমিশন আজ বিকেলের দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে। একে ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নং ১’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলি এবং সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন। বহু মানুষ শেষ মুহূর্তে ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ভোটার সংখ্যার পরিসংখ্যানে বদল
প্রথম দফার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা নিয়ে এক জটিল হিসাব সামনে এসেছে। এসআইআর (SIR) শুরু হওয়ার আগে এই আসনগুলিতে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫১৭ জনের মতো। তবে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া ও নানা সংশোধনের পর বর্তমান ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। এই পরিসংখ্যানের সামান্য রদবদল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্ক বদলে দিতে পারে। কমিশন চাইছে প্রতিটি যোগ্য ভোটার যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রস্তুতির ব্যস্ততা ও দ্বিতীয় দফা
কমিশন জানিয়েছে যে, আজ সন্ধ্যা নাগাদ রাজনৈতিক দলগুলির হাতে এই ট্রাইব্যুনাল লিস্ট বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকার কপি তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে প্রার্থীরা তাঁদের এলাকার নতুন ভোটারদের সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভে সক্ষম হবেন। শুধু প্রথম দফাই নয়, দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনালের কাজ অব্যাহত থাকবে। ২৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নামের নিষ্পত্তি করবে, তাঁরা ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ার ফলে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ভোটাররা আশার আলো দেখছেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
ভোটারদের জন্য পরামর্শ ও সতর্কবার্তা
নির্বাচনের এই উত্তপ্ত আবহে ভোটারদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন বারবার আবেদন জানিয়েছে যাতে ভোটাররা নিজেদের নাম ও বুথ নম্বর আগেভাগেই যাচাই করে নেন। ডিজিটাল পোর্টাল বা হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহার করে এই তথ্য সংগ্রহ করা এখন অনেক সহজ। ট্রাইব্যুনাল তালিকার নাম আসার পর ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করা বা পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাঞ্ছনীয়। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নির্ভয়ে ও সুষ্ঠুভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগেই ট্রাইব্যুনালের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ ভোটারদের মনে নতুন করে উৎসাহ জাগিয়েছে। ১৩৬ জন নতুন ভোটারের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সামগ্রিক ভোটার সংখ্যার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আইনি জট কাটিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগামীকালের নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার জন্য ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নিষ্পত্তির দিকেও নজর রাখছে আপামর জনতা। সহজ ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দিতে কমিশনের এই ডিজিটাল উদ্যোগ এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।
