Bharat Bandh: ১২ই ফেব্রুয়ারি ভারত বনধ এ অফিস কামাই করলেই সরকারি কর্মীদের বেতন কাটা ও কড়া শাস্তি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে Bharat Bandh তথা ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ‘ভারত বনধ’ (Bharat Bandh) সফল করতে একাধিক শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কিন্তু এই বনধের মোকাবিলায় কড়া মনোভাব গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার নবান্নের অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বনধের দিন সরকারি কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক। কাজে অনুপস্থিত থাকলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

Bharat Bandh নিয়ে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা

রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি দপ্তর খোলা থাকবে। এই দিনে উপযুক্ত কারন ছাড়া কেউ ছুটি নিতে পারবেন না। এই নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেতন কাটার হুঁশিয়ারি

কোনো কর্মী যদি সেদিন কাজে যোগ না দেন, তবে তার বেতন কাটা হতে পারে। ওই দিনের অনুপস্থিতিকে ‘ডাইজ-নন’ (Dies Non) হিসেবে গণ্য করার কথা ভাবছে প্রশাসন। এর ফলে কেবল এক দিনের বেতন হারানো নয়, চাকুরিজীবীদের কর্মজীবনের রেকর্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজ্য সরকার চায় না সাধারণ মানুষ পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধায় পড়ুক। তাই পরিষেবার স্বার্থে সব কর্মচারীকে অফিসে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছুটির ক্ষেত্রে বিশেষ কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ

ধর্মঘটের দিন কোনো ধরনের ক্যাজুয়াল লিভ (Casual Leave) বা অন্য কোনো ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। এমনকি অর্ধদিবস বা ফুল লিভ—সবই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। বুধবারের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো আগাম অনুমতি ছাড়াই যারা কামাই করবেন, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) দেওয়া হবে। যদি কর্মীর দেওয়া উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই কড়াকড়ি মূলত বনধের দিন সরকারি কাজ সচল রাখতেই করা হয়েছে। নবান্ন চায় না বনধের সমর্থনে কোনো কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করুক।

বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা ও ছাড়ের ব্যবস্থা

তবে সব ক্ষেত্রেই যে বেতন কাটা হবে, এমনটি নয়। নবান্ন কিছু মানবিক কারণে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্দেশিকায়। যদি কোনো কর্মচারী আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি থাকেন বা গুরুতর অসুস্থ হন, তবে তার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পরিবারের কোনো বিয়োগান্তক ঘটনা বা শোকের কারণে যদি কেউ ছুটিতে থাকেন, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি বা চাইল্ড কেয়ার লিভে যারা আগে থেকেই আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা থাকবে। তবে এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপযুক্ত নথিপত্র বা প্রামাণ্য দলিল দাখিল করতে হবে।

বনধের কারণ ও ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আর্থিক নীতি এবং নতুন শ্রম আইনের প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। মূলত চারটি নতুন শ্রম কোড (Labour Codes) বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামছেন শ্রমিকরা। ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই নতুন আইন শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে এবং মালিকপক্ষের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান নীতিতে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিকের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশাল ধর্মঘট রুখতেই রাজ্য সরকার প্রশাসনিকভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

সরকারি পরিষেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

১২ ফেব্রুয়ারি ‘ভারত বনধ’ (Bharat Bandh) এর কারণে ব্যাঙ্ক এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে যাতায়াত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে। বেসরকারি বাস বা অটো চালকদেরও পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি বাস ও ট্রেন চলাচল যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। ট্রেন অবরোধ বা পথ অবরোধ মোকাবিলা করতে জেলায় জেলায় বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার এক টানটান উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে রাজ্যে।

আরও পড়ুন, ২৫% বকেয়া ডিএ পেলে, প্রত্যেক সকারি কর্মী কত টাকা করে বকেয়া পাবেন? গ্রুপ অনুযায়ী হিসাব দেখুন

প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সময়সীমা

‘ভারত বনধ’ (Bharat Bandh) নিয়ে অর্থ দপ্তরের এই কড়া নির্দেশ কার্যকর করার জন্য দপ্তর প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত কর্মীদের নামের তালিকা এবং গৃহীত ব্যবস্থার রিপোর্ট আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব নিজে এই নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর অর্থ হলো, সরকার কেবল নামমাত্র নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং তার রূপায়ণও নিশ্চিত করতে চায়। প্রতিটি দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কড়া নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা ভয়ে যেন কাজ ব্যাহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জরুরি তথ্য

ভারত বনধের দিন যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। সরকারি দপ্তর খোলা থাকলেও বেসরকারি অনেক অফিস বা দোকান বন্ধ থাকার আশঙ্কা থাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা বা ব্যাঙ্কের কাজ ভারত বনধের আগেই সেরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ধর্মঘট সফল করতে সমর্থকরা রাস্তায় নামতে পারেন, যা থেকে জানজটের সৃষ্টি হতে পারে। তাই জরুরি কোনো কাজ না থাকলে সেদিন ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে আশা করা যায় যে, বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে যাতে পাঠকরা ১২ ফেব্রুয়ারির পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান। রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থান এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জেদ—এই দুয়ের মাঝে জনজীবন স্বাভাবিক থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!