Group C Group D Recruitment: ভোটের আগেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ সি ও ডি নিয়োগ। নবান্নের সবুজ সংকেত

পশ্চিমবঙ্গের কর্মপ্রার্থীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ভোটের আগে রাজ্য সরকার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC Group C Group D Recruitment) মাধ্যমে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন।

West Bengal Group C Group D Recruitment

নবান্নের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় (Group C Group D Recruitment) সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে, যা কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং নানা টানাপড়েন কাটিয়ে অবশেষে এই পরীক্ষা আয়োজনের পথে হাঁটছে রাজ্য প্রশাসন। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অশিক্ষক কর্মীর শূন্যপদ পূরণ করতেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে ভোট কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হলেও পরীক্ষার্থীদের কাছে এটি এক বিরাট সুযোগ।

SSC নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচী ও শূন্যপদের বিন্যাস

স্কুল সার্ভিস কমিশন (West Bengal SSC) সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মার্চ মাসেই এই বহু প্রতীক্ষিত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নবান্নের অনুমোদন পাওয়ার পর কমিশন দ্রুততার সাথে পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে, যা অনুযায়ী ১ এবং ৮ মার্চ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রুপ-সি বিভাগে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ২,৯৮৯টি এবং গ্রুপ-ডি বিভাগে ৫,৪৮৮টি পদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। প্রায় ৮ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী গ্রুপ-সি পদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন এবং সমপরিমাণ প্রার্থী গ্রুপ-ডি পদের জন্য মুখিয়ে আছেন। দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লক্ষে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিযোগিতার তীব্রতাকে স্পষ্ট করে দেয়। এত বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনা সামলানো এখন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বিভাজনের খুঁটিনাটি

এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন বেশ কিছু নতুন নিয়ম ও নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করতে চলেছে। গ্রুপ-সি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হবে মোট ৬০ নম্বরের এবং গ্রুপ-ডি পদের জন্য পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরের। সময়সীমার ক্ষেত্রেও কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে; গ্রুপ-সি প্রার্থীরা পাবেন ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এবং গ্রুপ-ডি প্রার্থীরা পাবেন ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। দুপুর ১২টা থেকে প্রতিটি পরীক্ষা শুরু হবে বলে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড় হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সঠিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলোর সাথে সমন্বয় বজায় রাখছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

বিতর্কিত প্রার্থীদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

অতীতের নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এবার বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। যে সমস্ত প্রার্থী আগে অনিয়মের সাথে যুক্ত ছিলেন বা যাদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তারা এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। ইতিপূর্বেই কমিশন প্রায় ৩,৫১২ জন ‘চিহ্নিত’ বা ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের আবেদন সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকায় ১৩৬৩ জন গ্রুপ-সি এবং ২৩৪৯ জন গ্রুপ-ডি আবেদনকারী রয়েছেন যারা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কোনোভাবেই যেন অযোগ্য কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ এবং বিতর্কমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

আরও পড়ুন, ৯০ দিনের বৈধতা নিয়ে সস্তার রিচার্জ প্ল্যান চালু করলো রিলায়েন্স জিও। পাবেন অফুরন্ত কলিং ও সুপারফাস্ট ইন্টারনেট

নির্বাচনী আবহে নিয়োগের রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিধানসভা নির্বাচনের আগে নবান্নের এই অনুমোদনকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিরোধীরা অনেকদিন ধরেই রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারকে চেপে ধরেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে শাসক দল আশাবাদী। যদিও নির্বাচন ঘোষণার আগে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়, তবুও পরীক্ষা গ্রহণ করে সরকারের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে চাইছে প্রশাসন। শিক্ষা মহলের মতে, স্কুলগুলোতে কর্মীর অভাব মেটানো দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যা এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে চাকরিপ্রার্থীরা এখন নিজেদের প্রস্তুতির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতি

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে এই সরকারি চাকরির খবরটি উৎসবের আমেজ নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় অনেকের মধ্যেই হতাশা দানা বেঁধেছিল, যা এই ঘোষণার পর দূর হতে শুরু করেছে। কোচিং সেন্টারগুলোতে ভিড় বাড়ছে এবং লাইব্রেরিগুলোতে চাকরিপ্রার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো বেড়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস এবং প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ১৬ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জায়গা করে নেওয়া যথেষ্ট কঠিন কাজ হলেও প্রার্থীরা তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিশ্রমই এই বিশাল প্রতিযোগিতায় সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, নবান্নের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থানের বাজারে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই মেগা নিয়োগ ড্রাইভ (Group C Group D Recruitment) সফল হলে হাজার হাজার পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুততার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। পরীক্ষার্থীরা চান কোনো প্রকার আইনি জটিলতা ছাড়াই যেন এই প্রক্রিয়াটি সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়। আগামী মার্চ মাসের এই পরীক্ষা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই সকলের বিশ্বাস। নতুন বছরের শুরুতেই এই সুখবর, বাংলার লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!