PM Kisan Registration: প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় নতুন আবেদন শুরু হলো। কিষাণ যোজনার টাকা পেতে হলে মানতে হবে এই নিয়ম

২০২৬ সালের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় নতুন করে আবেদন শুরু হলো (PM Kisan Registration). যে সমস্ত কৃষক বন্ধুরা (Krishak Bandhu) কিষাণ যোজনায় এখনও আবেদন করেন নি, বা আগে আবেদন করেও টাকা পাননি, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করার আগে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি, আবেদনের নিয়ম কানুন সমস্ত কিছু বিদতারিত জেনে নিন।

PM Kisan Registration 2026

উন্নত কৃষি ব্যবস্থার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সময় নানা জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে আসে। এর মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ বা পিএম কিষান যোজনাটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয় এবং কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি বছর মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য এই প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া বা রেজিস্ট্রেশন (PM Kisan Registration 2026) ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এবার নিয়মকানুন এবং শর্তাবলীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা প্রত্যেক কৃষকের জানা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য না জানলে বা আবেদনের সময় সামান্য ভুল করলে আপনার আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সুবিধা

  • বার্ষিক আর্থিক সহায়তা: কিষাণ যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষক পরিবারগুলিকে প্রতি বছর মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
  • সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা: সহায়তার অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT-এর মাধ্যমে) পাঠানো হয়, ফলে কোনো মাঝঝারি লোকের হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির ভয় থাকে না।
  • নির্দিষ্ট কিস্তি: ৬,০০০ টাকা বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে (২,০০০ টাকা করে প্রতি ৪ মাস অন্তর) প্রদান করা হয়, যা চাষের খরচে সাহায্য করে।
  • বীজ ও সার ক্রয়ে সুবিধা: কিস্তির টাকা কৃষকরা মূলত চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মানের বীজ, সার এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
  • ক্ষুদ্র কৃষকদের নিরাপত্তা: এই যোজনাটি বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিএম কিষান রেজিস্ট্রেশনে কড়া নজরদারি

পিএম কিষান প্রকল্পে নতুন করে নাম তোলার ক্ষেত্রে বা PM Kisan Registration এর জন্য সবথেকে বড় যে পরিবর্তনটি এসেছে, তা হলো জমির মালিকানা সংক্রান্ত শর্ত। এখন আর শুধুমাত্র নিজের নামে জমি থাকলেই আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারির পর যারা জমির মালিক হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ কড়াকড়ি করা হয়েছে। যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয়, অর্থাৎ বাবা, মা বা দাদুর মৃত্যুর পর আপনার নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তবেই আপনি যোগ্য হবেন। কিন্তু যদি আপনি ২০১৯ সালের পর টাকা দিয়ে জমি কেনেন, তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তাই ফর্ম পূরণের সময় জমি পাওয়ার কারণ সঠিকভাবে উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি।

কিষাণ যোজনায় আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা

PM Kisan Registration বা অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রথমত, আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড এবং যদি বিবাহিত হন, তবে স্বামী বা স্ত্রীর আধার কার্ডের তথ্য প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, জমির সঠিক রেকর্ড বা পর্চা থাকতে হবে, যেখান থেকে খতিয়ান এবং দাগ নম্বর সংগ্রহ করা যাবে। তৃতীয়ত, একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন যা আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ওটিপি বা ভেরিফিকেশনের জন্য। এছাড়াও পারিবারিক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল রেশন কার্ডের নম্বরটি ফর্মে সঠিকভাবে বসাতে হবে। সমস্ত নথি পিডিএফ আকারে স্ক্যান করে রাখতে হবে যাতে আবেদনের সময় আপলোড করতে সুবিধা হয়।

কিষান সম্মান নিধি যোজনা আবেদন online

পিএম কিষানের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে কৃষকরা এখন নিজেরাই খুব সহজে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

  1. প্রথমে ওয়েবসাইটটির ‘New Farmer Registration’ অপশনে গিয়ে আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি জেনারেট করতে হবে।
  2. ওটিপি ভেরিফাই হওয়ার পর আধার কার্ড থেকে আপনার নাম ও ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্যগুলো নিজে থেকেই ফর্মে চলে আসবে।
  3. এরপর আপনাকে কেবল আপনার জাতিগত ক্যাটাগরি (SC/ST/General) এবং রেশন কার্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে।
  4. পরবর্তী ধাপে আপনার জমির অবস্থান অনুযায়ী জেলা, ব্লক এবং গ্রামের নাম নির্বাচন করে খতিয়ান ও দাগ নম্বর এন্ট্রি করতে হবে।
  5. সব শেষে জমির পর্চা বা রেকর্ডের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করে আবেদনটি সেভ করে সাবমিট করতে হবে।click here red button

আবেদন করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভেরিফিকেশন

অনেকেই মনে করেন যে অনলাইনে ফর্ম জমা দিলেই বুঝি টাকা আসা শুরু হয়ে যাবে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। PM Kisan Registration বা অনলাইনে আবেদন করার পর আপনাকে ‘Status of Self Registered Farmer’ লিঙ্কে গিয়ে নিয়মিত নিজের আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। এরপর অনলাইন আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে তার সঙ্গে আধার কার্ড ও জমির পর্চার জেরক্স সংযুক্ত করতে হবে। এই নথিপত্রগুলো আপনার ব্লকের স্থানীয় কৃষি আধিকারিকের করণে (ADA Office) গিয়ে সশরীরে জমা দিয়ে আসতে হবে। কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা আপনার দেওয়া তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার পরেই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। জেলা বা রাজ্য স্তর থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই আপনার নাম পিএম কিষানের বেনিফিশিয়ারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

নতুন নিয়মে টাকা পাওয়ার পদ্ধতি

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার টাকা প্রদানের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। এখন আর ফর্মে আলাদা করে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা আইএফএসসি কোড (IFSC Code) দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কেন্দ্রীয় সরকার এখন সরাসরি আধার বেসড পেমেন্ট বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) প্রক্রিয়ায় টাকা পাঠিয়ে থাকে। এর মানে হলো, আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি যুক্ত আছে, টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তাই কৃষকদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্কের পাশাপাশি ডিবিটি (DBT) অপশনটি সক্রিয় রয়েছে কিনা। এই ব্যবস্থার ফলে মাঝপথে টাকা চুরির কোনো ভয় থাকে না এবং প্রকৃত কৃষকের হাতেই অর্থ পৌঁছায়।

আরও পড়ুন, সারা জীবন প্রতিমাসে ১০০০০ টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। এই প্রকল্পে আবেদন করুন

পরিশেষে বলা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ কৃষকদের আর্থিক সংকট মোচনে এক বিরাট মাইলফলক। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে PM Kisan Registration বা আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় প্রতি বছর তিনটি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে মোট ৬,০০০ টাকা পাওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সাধারণ কৃষকরা কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই সুবিধা পেতে পারেন। গ্রামের সাধারণ কৃষকদের ডিজিটাল মাধ্যম সম্পর্কে সচেতন করতে এই অনলাইন পদ্ধতি বেশ কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। মনে রাখবেন, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সঠিক নথিপত্র এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। কৃষি কাজের উন্নতির জন্য এই সামান্য আর্থিক সহায়তা অনেক ক্ষুদ্র চাষির কাছে এক বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!