রেশন সামগ্রীর অভাবে জুন থেকে বন্ধ হচ্ছে ফ্রি রেশন পরিষেবা। কারা আর রেশন পাবেন না, সমস্ত রেশন কার্ড গ্রাহক দেখুন

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু হয় রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা। যার মাধ্যমে সমস্ত রেশন কার্ড (Ration Card) গ্রাহকদের বিনামূল্যে বা ফ্রি রেশন সামগ্রী দেওয়া হয়। এতে প্রতিমাসে প্রচুর মানুষ উপকৃত হয়ে থাকেন। আর এরপর একাধিক রাজ্যে দুয়ারে রেশন পরিষেবা চালু হওয়ার পর প্রচুর মানুষ বাড়ি বসেই বিনামূল্যে রেশন সামগ্রী পেয়ে থাকেন। কিন্তু রেশন সামগ্রীর অপ্রতুলতার কারণে দুয়ারে রেশন পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলো বিভিন্ন খাদ্যদপ্তর। কারা আর ফ্রি রেশন ও দুয়ারে রেশন পাবেন না, জেনে নিন।

দুয়ারে রেশন ও ফ্রি রেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

অন্ধ্রপ্রদেশে আগামী ১ জুন, ২০২৫ থেকে দুয়ারে রেশন ব্যবস্থা বন্ধ হতে চলেছে। ২০ মে, ২০২৫-এ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র শারীরিক ভাবে অক্ষম এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অন্য সকল গ্রাহকদের প্রাপ্য চাল-গম নিতে নির্দিষ্ট রেশন দোকানে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্ত দিল্লির খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রককেও জানানো হয়েছে। এর আগে দিল্লি সরকারও এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রি রেশন গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ বাড়িতে রেশন পৌঁছানোর সুবিধা বন্ধ হলে অনেকের অসুবিধা হবে।

বন্ধের কারণ: বাড়তি খরচ ও হিসাবের সমস্যা

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দুয়ারে রেশন ব্যবস্থা চালাতে বছরে ১,৮০১ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। এই খরচের মধ্যে খাদ্যশস্য লিকেজ, হিসাবে গরমিল, ফ্রি রেশন বিতরণের গাড়ি মাসের অর্ধেক সময় অব্যবহৃত থাকা এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ খরচ অন্তর্ভুক্ত। সরকারের ছয় পাতার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই বাড়তি খরচ ও বিতরণে অদক্ষতার কারণে ব্যবস্থাটি বন্ধ করা হচ্ছে। এই সমস্যাগুলি দূর করতে রেশন দোকানের মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন, ৬ লাখ টাকা বিনা সুদে ঋণ দিচ্ছে সরকার। কিভাবে আবেদন করবেন?

পশ্চিমবঙ্গে দুয়ারে রেশন অব্যাহত থাকবে

পশ্চিমবঙ্গের রেশন কার্ড গ্রাহককদের দুয়ারে রেশন ব্যবস্থা বন্ধ হচ্ছে না এবং এটি অব্যাহত থাকবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই প্রকল্প চালু হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় রেশন (Free ration) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে রেশনিং ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য হয়। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য বছরে ৪০৮ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করছে, যা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে ৩,৩০,৮৮৫ মেট্রিক টন চাল-গম বিতরণের জন্য ব্যয় হচ্ছে। তবে, রাজ্যের খাদ্যসাথী যোজনার খরচ এতে ধরা হয়নি, ফলে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হচ্ছে একাধিক পোস্ট অফিস! পোস্ট অফিসে একাউন্ট থাকলে কি করবেন?

প্রকল্পের পটভূমি ও গ্রাহকদের উপর প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সাল থেকে দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু হয়, যার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য রেশন বিতরণকে আরও সুবিধাজনক করা। অন্ধ্রপ্রদেশেও এই ব্যবস্থা চালু ছিল, কিন্তু খরচ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে তা বন্ধ হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রাহকদের এখন রেশন দোকানে যাওয়ার অতিরিক্ত ঝক্কি পোহাতে হবে, যা অনেকের জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চলমান থাকায় রাজ্যের রেশন কার্ড গ্রাহকরা এখনও দোরগোড়ায় রেশন পাওয়ার সুবিধা ভোগ করবেন। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে প্রতিমাসে যেভাবে গ্রাহকেরা রেশন পেতেন, তেমনই পাবেন। এবং এই খবর শুধুমাত্র দিল্লী ও অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রাহকদের জন্য। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!