ব্যাংক একাউন্ট সক্রিয় রাখতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক তথা RBI এবং সমস্ত ব্যাংক কতৃপক্ষ একাধিক বার গ্রাহকদের (Bank Account) সচেতন করার পরও লাখ লাখ গ্রা্কের একাউন্টে, টাকা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের নির্দেশ মানে নি। এরপর অনেক কে ফোন ও করা হয়েছে। অনেকেরই ফোন নম্বর বদলে গেছে, বা ইনকামিং নেই। যার ফলে এক ধাক্কায় প্রচুর গ্রাহকের একাউন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ বা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার আশংকা। কি কারণে এনাদের একাউন্ট ফ্রিজ হচ্ছে, একাউন্ট চালু রাখতে কি করতে হবে, বিস্তারিত জেনে নিন।
RBI Rules on Bank Account Activation
গতকাল ব্যাংক কতৃপক্ষের একটি বিবৃতি থেকে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় লক্ষাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গ্রাহক ১০ বছর ধরে KYC Update করেন নি। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে যে, এই কারনেই শুধুমাত্র গতকালই প্রায় দুই লক্ষ আশি হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ বা নিস্ক্রিয় করা হচ্ছে। এনারা টাকা জমা দিতে পারবেন, কিন্তু তুলতে পারবেন না। আর এই ক্যাটাগরিতে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার অ্যাকাউন্টগুলি।
কি কারণে ব্যাংক একাউন্ট নিস্ক্রিয় হচ্ছে?
এদিন রিজার্ভ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সচেতনতা শিবিরে সানবাদিক সম্মেলনে জানা গেছে, প্রায় ৮০ লাখ গ্রাহক, বার বার বলা সত্ত্বেও KYC জমা দেন নি। এমন কি অনেকেই ৫ বছরে অধিক সময় ধরে ব্যাঙ্কেই আসেন না! প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর KYC Update করা প্রয়োজনীয়। কিন্তু যারা বছরের পর বছর ধরে KYC জমা দিচ্ছেন না, তাদের একাউন্ট বন্ধ হতে চলেছে। গ্রাহক টাকা জমা দিতে পারবেন, কিন্তু তুলতে পারবেন না। KYC আপডেট হলে একাউন্ট ফের সক্রিয় করা হবে।
আরও পড়ুন, লোন নিয়ে পরিশোধ না করলে, EMI না দিলে বন্ধ হবে মোবাইল ফোন, আধার ও প্যান কার্ড
রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশিকা
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইউডেন শেরপা জানিয়েছেন যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে রি-কেওয়াইসি অপরিহার্য। তিনি বলেন যে উপার্জন সুরক্ষিত করা এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার্য। সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার রিজিওনাল ম্যানেজার কুমার প্রভাত রাজু উল্লেখ করেন যে দশ বছরের পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলির রি-কেওয়াইসি চলছে। যারা এটি না করবেন, তাদের অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ হয়ে যাবে এবং সরকারি সহায়তা বন্ধ হবে। দেশজুড়ে এক জুলাই থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যা ব্যাংকগুলিকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য করেছে। দার্জিলিংয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় একত্রিশটি, এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকও অসংখ্য।
যারা KYC আপডেট করন নিন
লিড ব্যাংকের তথ্য অনুসারে দার্জিলিং জেলায় দশ বছরের পুরোনো কেওয়াইসি-হীন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ লক্ষ আশি হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অর্ধেকের কাছাকাছি। এখন পর্ধেকের১১ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। তবুও ১২ লক্ষ সাতাত্তর হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট এখনও অসম্পূর্ণ। প্রচার অভিযান চালিয়েও এই সংখ্যা কমেনি যথেষ্ট। আগামী তিরিশ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ অভিযানের সময়সীমা শেষ হবে।
লিড ব্যাংক ম্যানেজারের মন্তব্য এবং গ্রাহকদের দায়িত্ব
লিড ব্যাংক ম্যানেজার রাজেশ কুমার জানান যে সেপ্টেম্বরের পরও কেওয়াইসি গ্রহণ চলবে। গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা এবং আধার কার্ডের মতো দলিল জমা দিতে হবে। যারা এটি উপেক্ষা করবেন, তাদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাবে এবং লেনদেন বন্ধ হবে। এতে গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। ব্যাংকগুলি গ্রাহকদের সচেতন করার জন্য নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে। রি-কেওয়াইসি না করলে সরকারি যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিবিরে অন্তর্ভুক্ত যোজনা এবং সুবিধা
শিবিরগুলিতে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বিমা যোজনা এবং সুরক্ষা বিমা যোজনার নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের সুযোগও ছিল। রি-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সরাসরি সম্পন্ন করা হয়েছে গ্রাহকদের জন্য। ডিজিটাল প্রতারণা থেকে সুরক্ষার উপায় শেখানো হয়েছে। এই শিবিরগুলি গ্রাহকদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
কেওয়াইসি আপডেটের সুবিধা এবং প্রভাব
কেওয়াইসি আপডেট করলে অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকে এবং লেনদেন সহজ হয়। এতে সরকারি সহায়তা যেমন ভর্তুকি বা পেনশন পাওয়া যায় নির্বিঘ্নে। দার্জিলিংয়ের মতো এলাকায় যেখানে গ্রামীণ জনগণ বেশি, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকগুলি গ্রাহকদের সহায়তা করার জন্য বিশেষ কাউন্টার খুলেছে। রি-কেওয়াইসি না করলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বা জমা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অভিযান দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করে তুলছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং সতর্কতা
আগামী দিনে আরও সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হবে বিভিন্ন জেলায়। গ্রাহকদের আধার কার্ড এবং অন্যান্য ডকুমেন্টস সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেওয়াইসি অসম্পূর্ণতা দূর করতে অনলাইন সুবিধাও চালু রয়েছে কিছু ব্যাংকে। এতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। তবে ফ্রিজ হওয়ার আগে সময়মতো কাজ করা জরুরি। আরবিআইয়ের নির্দেশিকা মেনে চললে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।